
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে অবস্থিত ‘এম আর এনার্জি ফিলিং স্টেশন’-এর বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে অবৈধ গ্যাস সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিনের পর দিন গভীর রাতে ভারী যানবাহন ও ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডারে নিয়ম না মেনে গ্যাস সরবরাহ করছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ওই এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নাগরিক দুর্ভোগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাত গভীর হলেই এম আর এনার্জি ফিলিং স্টেশনে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করতে থাকে একের পর এক ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। সেখানে কোনো ধরনের দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অবৈধ ও অরক্ষিত সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করা হয়। ব্যস্ততম এই জনপথ মোড়ে যত্রতত্র ভারী যানবাহন পার্কিং করে রাখার ফলে গভীর রাতেও সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, যা পথচারী ও যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, এসব ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও পাম্পের অব্যবস্থাপনার কারণে জনপথ মোড়ে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, যেভাবে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পাম্পটি অতিরিক্ত মাত্রায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ করায় সায়েদাবাদ ও আশপাশের আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ (প্রেসার) আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার সময়মতো রান্না করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। নিয়মিত এ ধরনের অনিয়মের কারণে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ পথচারীরা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা পেট্রোবাংলা (বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন)-র কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা জানতে এম আর এনার্জি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে পাম্পটির প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় পাওয়া মাত্রই অশোভন আচরণ করেন এবং বক্তব্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
জাতীয় স্বার্থ, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সায়েদাবাদের মতো ব্যস্ততম এলাকায় এম আর এনার্জি ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা মানদণ্ড পর্যালোচনা করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থা ও প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে অনিয়মের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :