
রবিউল ইসলাম,রাজশাহী ব্যুরোঃ জেলাজুড়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, ধারাবাহিক ভ্রাম্যমাণ আদালত, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পরও পুঠিয়ায় থামছে না মাটি খেকো চক্রের দৌরাত্ম্য। তবে এবার বৃষ্টির আঁধার রাতেও শেষ রক্ষা হলো না তাদের। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪টি এস্কেভেটর (ভেকু) অকেজো করার পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কৃষি জমির টপসয়েল কাটা।
গত বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাতে পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বদোপাড়া ও নান্দিপাড়া এলাকায় ফসলি জমির শ্রেণী পরিবর্তন ও মাটি কাটা রোধে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌসুমের শুরু থেকেই রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ পুকুর খননের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে একশ্রেণির অসাধু চক্র। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর আইনি পদক্ষেপের কারণে অনেক এলাকায় এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এলেও পুঠিয়া ও দুর্গাপুরে মাটি মাফিয়াদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে এই দুই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-দের বলিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকার কারণে তাঁদের আইনি পদক্ষেপ এখন পুরো জেলায় প্রশংসিত।
বুধবার রাতে অতিবৃষ্টি ও দুর্গম পথ উপেক্ষা করে যখন এসিল্যান্ড শিবু দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটা চক্রের সদস্যরা চতুরতার সাথে রাতের অন্ধকারে সটকে পড়ে। তবে ঘটনাস্থল থেকেই হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে তিন ও দুই ফসলি জমির ক্ষতিসাধন করা ৪টি এস্কেভেটর (ভেকু) যান্ত্রিকভাবে অকেজো করে দেয় প্রশাসন।
অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস জানান, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিজমি রক্ষায় সরকার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে—অনুমতি ছাড়া আবাদি জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বৃষ্টির রাত কিংবা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই হোক না কেন, ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি কাটা চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ও জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে গভীর রাতে কৃষি জমি রক্ষায় এসিল্যান্ড শিবু দাসের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। সততা, নিষ্ঠা ও কঠোর আইনি প্রয়োগের মাধ্যমে পুঠিয়াবাসীর কাছে তিনি এখন এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
আপনার মতামত লিখুন :