
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পরিবেশ রক্ষার লড়াই এখন আর শুধু সরকারি উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণও হয়ে উঠছে টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সেই প্রত্যয় থেকেই রাজশাহীর দুর্গাপুরে সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক নিবন্ধিত কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়নের বেড়া গ্রামের সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ.ন.ম. রাকিবুল ইউসুফ।
উদ্বোধনের অংশ হিসেবে সুপারি ও জাম গাছের চারা রোপণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার চারা রোপণ করা হবে। শুধু গাছ লাগানোই নয়, প্রতিটি চারার পরিচর্যা নিশ্চিত করেও একটি দীর্ঘমেয়াদি সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এ কর্মসূচিতে অংশ নেয় অগ্রগামী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা, কুশাডাঙ্গা মানব উন্নয়ন সংস্থা, নির্ভয় সেবা উন্নয়ন সংস্থা, পথচলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা, ড্যাফোডিল দুঃস্থ প্রতিবন্ধী ও নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন সংস্থা, আলিপুর প্রত্যাশা সংগঠন এবং আলিপুর এলএসপি।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ.ন.ম. রাকিবুল ইউসুফ বলেন,
“একটি গাছ শুধু ছায়া দেয় না, এটি মানুষের জীবন বাঁচায়। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি চারাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের সবার। পরিবেশ রক্ষায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।”
অগ্রগামী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম বলেন,
“সমাজ উন্নয়ন মানেই কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়; পরিবেশ সংরক্ষণও সামাজিক দায়িত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুশাডাঙ্গা মানব উন্নয়ন সংস্থার শফিকুল ইসলাম স্বপন, নির্ভয় সেবা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক রবিউল আওয়াল, ড্যাফোডিলের পরিচালক কাওসার আহমেদ, আলিপুর এলএসপির পরিচালক, বেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহাবুবা খাতুন, সহকারী শিক্ষক আব্দুল ওহাব, শামিম রেজা, জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী।
কর্মসূচির শেষে উপস্থিত সবাই পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার হিসেবে প্রতি বছর অন্তত দুটি করে গাছ রোপণ এবং সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করার শপথ নেন।
আপনার মতামত লিখুন :