
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা ভিত্তিক আয়োজন ‘বোর্নিও আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা (বিআইআইসিসি) ২০২৬’-এর বৈশ্বিক চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তরুণ উদ্ভাবক আব্দুল্লাহ আলিম।
জাতীয় পর্যায়ের অ্যাওয়ার্ড ও স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠানে অসাধারণ সাফল্যের মাধ্যমে তিনি স্বর্ণপদক, প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ সম্মানজনক ‘গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড’ এবং আন্তর্জাতিক চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের অনুমোদনপত্র ‘ইয়েস কার্ড’ অর্জন করেছেন।
গত ১৮ মে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইয়ং সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইনোভেটরস সোসাইটির (BYIS) আয়োজনে দিনব্যাপী এই বিশেষ অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত তরুণ বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবকদের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অর্জিত সাফল্য উদযাপন করা হয় এবং বৈশ্বিক চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিতদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী এবং পাটের তৈরি পরিবেশবান্ধব ‘সোনালী ব্যাগ’-এর উদ্ভাবক ড. মোবারক আহমদ খান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কর্নেল আশরাফ আল দীন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জুবায়ের আহমেদসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিজ্ঞান ব্যক্তিত্বরা। কিংবদন্তি বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খানের হাত থেকে এই সর্বোচ্চ সম্মাননা গ্রহণ করেন আব্দুল্লাহ আলিম।
জাতীয় পর্যায়ে আব্দুল্লাহ আলিম তার উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘বিন টু বেনিফিট’ (Bin to Benefit) উপস্থাপন করেন। এটি একটি আধুনিক স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্ভাবন। প্রকল্পটিতে স্মার্ট বিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) সেন্সর এবং বর্জ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে একটি প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পরিবেশগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীরা নির্ধারিত স্থানে সঠিকভাবে বর্জ্য ফেললে ‘গ্রিন কয়েন’ বা ডিজিটাল পুরস্কার পাবেন, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ও পুরস্কার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। বিচারকদের মূল্যায়নে প্রকল্পটি উদ্ভাবন, বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির সক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ স্বীকৃতি অর্জন করে।
উদ্ভাবক আব্দুল্লাহ আলিমের মতে, এই প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নয়; বরং নাগরিকদের পরিবেশ সচেতন আচরণ গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন, সচেতন ও টেকসই নগরব্যবস্থা তৈরি করা। এটি জাতিসংঘ ঘোষিত একাধিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) বাস্তবায়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আগামী ১৯ থেকে ২৩ জুন ২০২৬ মালয়েশিয়ার সাবাহ অঞ্চলে অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহ’ ক্যাম্পাসে বিআইআইসিসি ২০২৬-এর বৈশ্বিক চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। মালয়েশিয়া ইয়ং সায়েন্টিস্টস অর্গানাইজেশনের আয়োজনে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের শত শত তরুণ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক অংশ নেবেন। এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য—“ফ্রম বোর্নিও টু দ্য ওয়ার্ল্ড: ইনোভেটিং উইথ পারপাস”।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের অনুভূতি প্রকাশ করে আব্দুল্লাহ আলিম বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবকদের মাঝে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। দেশের সেরা তরুণ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের মিলনমেলায় স্বর্ণপদক এবং গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন সত্যিই অনেক বড় প্রাপ্তি। ড. মোবারক আহমদ খানের মতো একজন কিংবদন্তি বিজ্ঞানীর হাত থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রমাণ করতে চাই— বাংলাদেশের তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিশ্বমানের।”
বাংলাদেশ ইয়ং সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইনোভেটরস সোসাইটির কর্মকর্তারা জানান, দেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তুলতেই তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আপনার মতামত লিখুন :