
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠা সব তথ্য। নিজের স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। এরপর শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা হয় তার মাথা। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে পড়ে ছিল শিশুটির মস্তকবিহীন দেহ, আর পাশের আরেকটি কক্ষের বালতির ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তার কাটা মাথা!
বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে এই নির্মম ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন জানান, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না নিজ বাসার একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় সোহেল বাইরে থেকে কৌশলে ওই কক্ষের সিটকিনি লাগিয়ে দেন। এরপর বাইরে থেকে জোর করে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ফ্ল্যাটের ভেতরে ধরে নিয়ে আসেন তিনি। এই নৃশংসতায় সোহেলের সঙ্গে তার আরেক সহযোগীও শামিল ছিলেন। রামিসা চিৎকার শুরু করলে তার মুখ ওড়না দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তাকে বাথরুমের ভেতরে নিয়ে গিয়ে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, রামিসাকে হত্যার পর তার দেহ টুকরো টুকরো করে গুম করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঘাতক সোহেল ও তার সঙ্গী। ঠিক এই সময়েই রামিসার স্বজন ও প্রতিবেশীরা নিখোঁজ শিশুটির খোঁজে ওই ফ্ল্যাটের দরজায় এসে ধাক্কা দিতে শুরু করেন। বেগতিক দেখে এবং দরজা ভেঙে ফেলার উপক্রম হলে, সোহেল ও তার সহযোগী পেছনের জানালার গ্রিল ভেঙে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যান। তবে ঘরের ভেতরে আটকে থাকা সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান ঘাতক সোহেল রানাকেও গ্রেফতার করে।
নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি। সাড়ে ১০টার দিকে তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত সোহেলের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতো দেখতে পান তারা। ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের ডেকে এনে দরজা ভাঙেন স্বজনরা। ভেতরে ঢুকেই রামিসার রক্তাক্ত মস্তকবিহীন দেহ এবং বালতিতে মাথা দেখে স্তব্ধ হয়ে যান সবাই।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল কালাম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, বুধবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তায় আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। অন্যদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় বুধবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারসহ মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :