আমার নাতনিটাকে ফিরিয়ে দিন— হুমায়রার সন্ধানদাতাকে ১ লাখ টাকা পুরস্কার


বার্তা বিভাগ প্রকাশের সময় : মে ১৬, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ /
আমার নাতনিটাকে ফিরিয়ে দিন— হুমায়রার সন্ধানদাতাকে ১ লাখ টাকা পুরস্কার

রবিউল ইসলাম,রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীর দুর্গাপুরে চার বছরের ছোট্ট শিশু হুমায়রা জান্নাতের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক আর উৎকণ্ঠার ছায়া। শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ করেই হারিয়ে যায় আদরের শিশুটি। দীর্ঘ প্রায় ১৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ৮টার দিকে হুমায়রাকে খুঁজে দিতে পারলে বা নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিশুটির পরিবার। এই ঘোষণার পর স্থানীয়দের মাঝেও নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ হুমায়রা জান্নাত রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত স্থানীয় একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী। পরিবারের দাবি, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশেই সমবয়সী কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খেলছিল হুমায়রা। কিছুক্ষণ পর থেকেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শিশুটির দাদা ইসমাইল(ফার্মেসি ব্যবসায়ী/পল্লী চিকিৎসক)হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার নাতনিটাকে যে ফিরিয়ে দিতে পারবে, তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু আমার নাতনিটাকে ফিরে চাই।”
পরিবার জানায়, নিখোঁজের সময় হুমায়রার পরনে ছিল কালো রঙের গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট। তার সঙ্গে খেলতে থাকা শিশুরাও কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এ ঘটনায় পরিবারের সন্দেহ, হয়তো কেউ তাকে অপহরণ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মুক্তিপণের দাবিও আসেনি।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা রাতভর বাড়ির আশপাশের পুকুর, জঙ্গল, বাগানসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু এখনো মেলেনি ছোট্ট হুমায়রার কোনো খোঁজ।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি করেছি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছি। এখনো অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কারণ কেউ কোনো টাকা দাবি করেনি।”
এদিকে হুমায়রার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিশুটির ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তাকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করছেন স্থানীয়রা। সবার একটাই প্রার্থনা— ছোট্ট হুমায়রা যেন দ্রুত নিরাপদে পরিবারের কোলে ফিরে আসে।