রাজশাহীতে গৃহবধূ রিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু: যৌতুক, নির্যাতন ও পরকীয়ার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা


বার্তা বিভাগ প্রকাশের সময় : মে ১৫, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ /
রাজশাহীতে গৃহবধূ রিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু: যৌতুক, নির্যাতন ও পরকীয়ার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ধরমপুর এলাকায় তরুণ গৃহবধূ মোসা. ঋতু খাতুন রিয়া (২২)-এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন, যৌতুকের চাপ এবং স্বামীর পরকীয়ার জেরে রিয়াকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিয়ার স্বামী মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা শিলা।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে মতিহার থানার ডাঁশমারী মধ্যপাড়া এলাকার রিয়ার সঙ্গে ধরমপুর (সোরাফানের মোড়) এলাকার মিজানের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে স্বামীর পরকীয়া, জুয়ার আসক্তি ও অর্থলোভকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রিয়াকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করেও টাকা আনার জন্য তাকে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। টাকা না আনলে তাকে সংসার থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো।
নিহতের মা জানান, গত ১২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রিয়া তাকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ঘুমিয়ে থাকায় সেই ফোন ধরতে পারেননি তিনি। পরে গভীর রাতে আসে মেয়ের মৃত্যুর খবর।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়ার মরদেহ দেখতে পান। তাদের দাবি, রিয়ার গাল, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং হত্যার অভিযোগ তোলেন।
পরে মতিহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বাদ আসর স্থানীয় কবরস্থানে রিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়।
মৃত্যুকালে রিয়া রেখে গেছেন পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ও আট মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান। মায়ের নিথর দেহের পাশে শিশু সন্তানদের কান্না উপস্থিত স্বজনদেরও বাকরুদ্ধ করে তোলে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ১২ মে রাত থেকে ১৩ মে ভোরের মধ্যে কোনো এক সময় যৌতুকের টাকার জন্য রিয়াকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি তাদের।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকের ভয়াবহতা আবারও একটি তরুণ প্রাণ কেড়ে নিল।
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কবির জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই আলমাসকে।
তিনি বলেন, “নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।