রাজশাহীর দুর্গাপুরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান


বার্তা বিভাগ প্রকাশের সময় : জুন ৩০, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ /
রাজশাহীর দুর্গাপুরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান

রবিউল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের আমগাছি বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আমগাছি পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শমসের আলীর ছেলে ইদ্রিস আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, সুদের কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। সম্প্রতি ১২ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলাটিকে হয়রানিমূলক উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান বক্তারা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তার অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে ইদ্রিস আলী তাকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এবং পরে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালান। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরদিন তার স্ত্রী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই তিনি ও তার পরিবার বিভিন্ন ধরনের হুমকির মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ইদ্রিস আলী পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল লতিফকে উদ্ধারের সময় এলাকাবাসী ইদ্রিস আলীর বাড়ির দুটি কক্ষে নির্যাতনের বিভিন্ন আলামত দেখতে পান। সেখানে তিনটি কবর খনন করা ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া ওই স্থান ব্যবহার করে মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় এখন এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন শফিকুল ইসলাম।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তাদের বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।