
অনলাইন ডেস্ক: ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর রমেশ গ্রামে এক তরুণীকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া স্বপ্ন, গুজব ও অলৌকিকতার দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। দাফনের ১৮ দিন পর পরিবারের সদস্যরা কবর খুঁড়ে দেখেন মরিয়ম (২০) নামে ওই তরুণীর মরদেহ স্বাভাবিক অবস্থাতেই রয়েছে। এরপরই কেটে যায় স্বজনদের দীর্ঘদিনের সংশয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর খলিল লাহারির মেয়ে মরিয়ম জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৮ জুন ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। একই দিন ঈদের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
দাফনের কিছুদিন পর এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মরিয়মের কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে। পরে তাঁর এক ভাই ও এক বোন দাবি করেন, তাঁরা স্বপ্নে মরিয়মকে জীবিত অবস্থায় কবরের ভেতরে দেখেছেন এবং উদ্ধার করার আহ্বান পেয়েছেন। এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন শত শত কৌতূহলী মানুষ কবরটি দেখতে ভিড় জমাতে থাকেন।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আলোচনা করলে তাঁরা এমন দাবি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি কবর খোঁড়া থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান।
তবে স্বজনদের সন্দেহ ও মানসিক অস্থিরতা কাটাতে মঙ্গলবার বিকেলে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে কবর খোঁড়া হয়। কবর খননের পর দেখা যায়, মরিয়মের মরদেহ স্বাভাবিক অবস্থাতেই রয়েছে। এতে স্বপ্ন ও গুজবকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম বলেন, “আমি মরিয়মের জানাজার নামাজ পড়িয়েছি। পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়েছিলাম, স্বপ্নে কাউকে জীবিত দেখার অর্থ এই নয় যে তিনি বাস্তবেও জীবিত আছেন। ইসলামে দাফনের পর এভাবে কবর খোঁড়ার বিধান নেই।”
কবর খোঁড়ার কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু জানান, “স্বজনদের মনে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তা দূর করার জন্যই কবর খোঁড়া হয়। পরে বাস্তবতা দেখেই তাঁদের ভুল ধারণা ভেঙে যায়।”
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, পরিবার আগে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার দাবি নিয়ে থানায় এসেছিল। তাঁদের জানানো হয়েছিল, আইন অনুযায়ী আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো কবর খোঁড়া যায় না। পরে কবর খোঁড়ার ঘটনাটি পুলিশের জানা ছিল না।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন ও গুজবের চেয়ে বাস্তবতাই প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :