
নিজস্ব প্রতিনিধি: উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আধুনিক নগরায়ণের সমন্বয়ে তাহেরপুরকে একটি মডেল জনপদে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলোচনায় এসেছেন সমাজসেবক রাকিব হোসেন। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর এক উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন ইশতেহার স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। “মেগা প্ল্যানে সাজবে তাহেরপুর” শীর্ষক এই রূপরেখায় সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন, আধুনিক কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের নানা দূরদর্শী পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
ইশতেহার অনুযায়ী, তাহেরপুরে বৃহৎ আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা স্থানীয় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, অব্যবহৃত জমি ও সরকারি খাসভূমিকে কাজে লাগিয়ে সোলার পার্ক গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
কৃষিকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে স্মার্ট সেচব্যবস্থা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় হিমাগার এবং কৃষকদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম চালুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রাকিব হোসেন বলেন: বাগমারা তাহেরপুর পৌরএলাকা মূলত একটি বাণিজ্যিক অঞ্চল। এখানকার স্থানীয় কৃষকরা কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে তাহেরপুর বাজারে নিয়ে আসেন। তারা যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পান এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি দেশ-বিদেশের বাজারে পৌঁছাতে পারে, সেটাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
ইশতেহারের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো ‘গ্লোবাল মার্কেট কানেক্টিভিটি’ প্রকল্প। এর আওতায় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মান উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া যুবসমাজের জন্য আইটি ট্রেনিং সেন্টার, ফ্রিল্যান্সিং হাব এবং স্টার্টআপ সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা ইতোমধ্যে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার বেকারত্ব দূর হবে এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাহেরপুরে পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাব ছিল। রাকিব হোসেনের ঘোষিত মেগা প্ল্যান সেই শূন্যতা পূরণের একটি সাহসী ও যুগোপযোগী উদ্যোগ। আমরা সাধারন জনগন রাকিব ভাইয়ের পাশে আছি সে যেনো এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নকেন্দ্রিক এই ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ। তবে প্রাথমিকভাবে এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি দারুণ ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সোলার বিদ্যুৎ থেকে গ্লোবাল মার্কেট পর্যন্ত বিস্তৃত এই আধুনিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে তাহেরপুরকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন রাকিব হোসেন, তা এখন স্থানীয় জনপদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :