
রবিউল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরোঃ প্রশাসনিক দায়িত্ব, সরকারি প্রটোকল আর ব্যস্ততার মাঝেও মানবিকতার অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে অসহায় এক মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তার শিশুকে কোলে নিয়ে পুরো পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত দেখভাল করেন তিনি। ফলে সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন ওই নারী পরীক্ষার্থী।
মঙ্গলবার দুর্গাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ নিতে কোলে ছোট্ট শিশুকে নিয়ে কেন্দ্রে আসেন এক নারী। পরিবারের অন্য কেউ শিশুটিকে দেখাশোনা করার মতো না থাকায় বাধ্য হয়েই সন্তানকে সঙ্গে আনতে হয়েছিল তাকে। তবে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরই বিপাকে পড়েন তিনি। একদিকে প্রশ্নের উত্তর লেখা, অন্যদিকে শিশুর কান্না ও অস্থিরতা—দুই দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এ সময় কেন্দ্র পরিদর্শনে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আসে বিষয়টি। পরিস্থিতি বুঝে তিনি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বা প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে এগিয়ে যান। মায়ের কাছ থেকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে স্নেহভরে আগলে রাখেন, আদর-যত্নে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন।
পরীক্ষা চলাকালীন পুরো সময় শিশুটিকে নিজের কাছে রাখায় নিশ্চিন্ত মনে উত্তরপত্র লিখতে পারেন ওই নারী। ইউএনওর এমন মানবিক আচরণে উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে দায়িত্ববোধ ও মানবিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজান বলেন, কোনো মা যেন শুধু সন্তানের দায়িত্বের কারণে তার অধিকার বা সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই আমার বিবেচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি শুধু চেয়েছি তিনি যেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষাটি শেষ করতে পারেন। এতে যদি সামান্য সহযোগিতা করতে পেরে থাকি, সেটাই আমার প্রাপ্তি।
পরীক্ষাকেন্দ্রের এ ছোট্ট ঘটনাটি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য বার্তা হয়ে উঠেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার সহানুভূতিশীল এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, দায়িত্বের পাশাপাশি আন্তরিকতা ও মানবিক মূল্যবোধও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্গাপুরের এই ব্যতিক্রমী মুহূর্ত ইতোমধ্যেই স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :