আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল অংশে পাইলিং বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে: পরিবেশ ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী


স্টার নিউজ এজেন্সি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৩, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ন /
আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল অংশে পাইলিং বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে: পরিবেশ ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী

বাগেরহাট প্রতিনিধি: মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল অংশে চলমান নদীভাঙন রোধে পাইলিং বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রমজাইপুর এলাকায় নদীভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল অংশের রমজাইপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটা, কৃষিজমি এবং জানমালের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, চলমান ড্রেজিং কার্যক্রম, জোয়ার-ভাটার তীব্রতা এবং আন্তর্জাতিক নৌ রুট হিসেবে নিয়মিত জাহাজ ও নৌযান চলাচলের ফলে সৃষ্ট ঢেউ নদীভাঙনের অন্যতম কারণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে টেকসই সমাধান হিসেবে পাইলিং বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, ভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিরাজ মোল্লা।

নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল বলেন, মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল অংশে ভাঙনের তীব্রতা বেশি হলেও মোংলা অংশেও কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে চ্যানেলটির পাঁচ থেকে ছয়টি পয়েন্টে ভাঙন সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি পয়েন্টে ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জন্য নতুন করে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ভাঙন স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটির নিরাপদ নৌ চলাচলও নিশ্চিত হবে।

এসএনএ/মানিক