
বিশেষ প্রতিবেদন: রাজনীতিতে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং সুবিধাবাদী সুযোগ সন্ধানীদের দাপট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ও কড়া বার্তা দিয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অ্যাক্টিভিস্ট প্রিসিলা। সম্প্রতি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাজনীতিতে ত্যাগী কর্মীদের প্রতি অবহেলা ও তথাকথিত ‘রাজনৈতিক রোহিঙ্গা’দের অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রিসিলার মতে, দল ক্ষমতায় আসলে ভাগ্য বদলাবে—এমন আশা বুকে নিয়ে বহু তরুণ নিজেদের জীবন, যৌবন ও ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীরাও ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, এমনকি হারিয়েছেন সরকারি চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা। শত নির্যাতন, অপমান ও প্রতিকূলতার মাঝেও তারা আদর্শ ত্যাগ করে দল বদল করেননি। দুর্নীতির কোনো দাগ যাঁদের গায়ে নেই, নীতিবান হওয়ার কারণেই হয়তো আজ তাঁরা পদ-পদবি ও সাফল্যের সিঁড়ি থেকে অনেক দূরে।
পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, যেসব কর্মীরা দলের দুঃসময়ে বুক পেতে দিয়েছিল এবং এখনো প্রয়োজন হলে জীবন দিতে প্রস্তুত, তাঁদের আজ কোনো মূল্যায়ন নেই। অন্যদিকে অন্য দল থেকে আসা সুবিধাবাদী বা ‘রাজনৈতিক রোহিঙ্গা’রা আজ দলের সমস্ত সুফল ও ‘ক্রিম’ ভোগ করছে। রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে সুযোগ সন্ধানীদের পরামর্শ গ্রহণ করা রাজনীতির জন্য কখনো কোনো সুন্দর বার্তা বহন করে না।
প্রিসিলা উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষও ত্যাগী কর্মীদের এই অবমূল্যায়ন ভালো চোখে দেখছে না। যদি পরিচ্ছন্ন ও ত্যাগী মানুষদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়, তবে দল বা দেশ কারোরই ক্ষতি হবে না, বরং রাজনীতিতে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।
ক্ষমতার সময়ে অসংখ্য চাটুকার ও সুবিধাভোগী পাশে থাকলেও, দুঃসময়ে কেবল এই ত্যাগী ও বুক পেতে দেওয়া মানুষগুলোকেই পাশে পাওয়া যায়। তাই সময় থাকতে অন্ধ মোহ কাটিয়ে এসব পরীক্ষিত ও নিঃস্বার্থ কর্মীদের দিকে নজর দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে পোস্টটিতে।
প্রিসিলার এই বক্তব্যটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং তৃণমূলের ত্যাগী কর্মী ও অনুসারীদের মাঝে এক গভীর প্রতিধ্বনি তৈরি করেছে।
এসএনএ/মানিক
আপনার মতামত লিখুন :