
দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে কথিত ‘আওয়ামী লীগের দোসরদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অংশ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা দাবি করেন, দেশের বাইরে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে একটি মহল সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আওয়ামী লীগের দোসররা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। তারা প্রচুর টাকা খরচ করে দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, যারা দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াবে, তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিহত করতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সমাবেশে রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর বুলেট, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক এ কে এম মোহাইমেনুল হক রেন্টু ও উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. আলাউদ্দিন বক্তব্য দেন।
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব বাহিনীর টহল কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো বাহিনী ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তারা আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকে ছাড় না দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ মে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং আইন বিষয়ক উপদেষ্টার ঘোষণায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং দলটির নিবন্ধন স্থগিত করা হয়। জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছিল।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য শহীদ, যুবনেতা মজনু, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান আজিজ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিলহজ, শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মুনসুর, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মিঠুনসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আপনার মতামত লিখুন :