গোদাগাড়ীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, র‍্যালি ও পোনা মাছ অবমুক্ত


স্টার নিউজ এজেন্সি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ন /
গোদাগাড়ীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, র‍্যালি ও পোনা মাছ অবমুক্ত

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ “নিরাপদ মাছে ভরব দেশ, গড়ব সমৃদ্ধ বাংলাদেশ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্যচাষি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র‍্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ পুকুরের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে উপজেলা পরিষদ পুকুরে রুই, কাতলা ও অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির বার্তা দেওয়া হয়।
পোনা মাছ অবমুক্তকরণ শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও মৎস্যচাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। পাশাপাশি মৎস্য খাত গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মাছের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। উৎপাদিত মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগও কাজে লাগাতে হবে।
তিনি মৎস্যচাষিদের সরকারি পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ উৎপাদনের আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং মাছের প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ও পোনা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আগামী দিনগুলোতেও মৎস্য খাতের উন্নয়ন, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হয়।