দুর্গাপুরে অসাধু বালাইনাশক দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান


স্টার নিউজ এজেন্সি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৮, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ন /
দুর্গাপুরে অসাধু বালাইনাশক দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

রবিউল ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর দুর্গাপুরে কৃষকদের সুরক্ষায় এবং অঅনুমোদিত কৃষি উপকরণের কেনাবেচা বন্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। শ্রীধরপুর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে লাইসেন্সবিহীন বালাইনাশক ও নিবন্ধন ছাড়া সার বিক্রির অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নুর তানজুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে সোহেল নামে এক ব্যবসায়ীকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া বালাইনাশক বিক্রির অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় (নগদ আদায় ৫ হাজার)। অপরদিকে নজরুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ীর দোকানে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বালাইনাশক ‘কার্বোফুরান’ মজুদ ও নিবন্ধন ছাড়া সার বিক্রির দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ‘সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬’-এর ৮(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ৮(২) ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ৮(১) ধারায় নিবন্ধন ছাড়া সার সংরক্ষণ, বিতরণ, বিপণন বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ৮(২) ধারায় এর শাস্তির বিধান রয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তহিদুর রহমান, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বজলুর রহমান এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আইনি শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে দুর্গাপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নুর তানজু যোগদানের পর থেকেই জনস্বার্থে অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ এবং বাড়তির দামে, পেট্রোল, ভোজ্যতেল বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন তিনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নুর তানজু বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে আমাদের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, সাধারণ কৃষকদের যেন নিম্নমানের বা অবৈধ উপকরণ কিনে প্রতারিত হতে না হয়, সেজন্য অবৈধ সার মজুদ, লাইসেন্সহীন বালাইনাশক বিক্রি এবং সব অনিয়মের বিরুদ্ধে কৃষি বিভাগ সর্বদা সোচ্চার থাকবে।

অনুমোদনহীন ও নিষিদ্ধ বালাইনাশক এবং অনিবন্ধিত সার ব্যবহারের ফলে ফসলের পাশাপাশি জমির স্থায়ী ক্ষতি হয়, যা সরাসরি কৃষকের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই নিরাপদ ও অনুমোদিত কৃষি উপকরণ ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি অসাধু বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন তদারকি ও নজরদারি নিয়মিত রাখা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।