
এসএনএ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছানোয়ারা বেগম (৫৫) ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার পথে বিমানে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তবে ওমানের আইনি প্রক্রিয়ার কারণে মায়ের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরতে পারেননি ছেলে এরশাদ। তাকে একাই চট্টগ্রামে ফিরতে হয়েছে।
বর্তমানে ছানোয়ারা বেগমের মরদেহ ওমানে রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণের জন্য ওমানের মাস্কাটে ডাইভার্ট করা হয়।
মাস্কাট বিমানবন্দরে অবতরণের পর ছানোয়ারা বেগমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ছানোয়ারা বেগম সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বিল্লিয়ার পাড়ার বাসিন্দা। তার স্বামী নুরুল আমিন। দুই ছেলে শাহেদ ও এরশাদ সৌদি আরবে থাকেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৫ জুলাই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান ছানোয়ারা। ওমরাহ শেষে কয়েক মাস দুই ছেলের সঙ্গে থাকার কথা ছিল তার। তবে সৌদি আরবে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আগে থেকেই তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।
মাস্কাট বিমানবন্দরে মরদেহটি উড়োজাহাজ থেকে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ওমানের স্থানীয় আইন অনুযায়ী এজন্য রয়্যাল ওমান পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় দীর্ঘ সময় মরদেহটি উড়োজাহাজের ভেতরেই ছিল। পরে অনুমতি পাওয়ার পর মরদেহ নামিয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানে তার চিকিৎসাও করা হয়। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ছেলে এরশাদকে মায়ের মরদেহ ওমানে রেখেই দেশে ফিরতে হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, বুধবার দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি চট্টগ্রামে অবতরণ করেছে। ছানোয়ারা বেগমের মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এসএনএ/মানিক
আপনার মতামত লিখুন :