কিশোরগঞ্জে রাস্তা হয়ে উঠছে মরণফাঁদ, উন্নয়নে পিছিয়ে করিমগঞ্জ!


স্টার নিউজ এজেন্সি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৬, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ন /
কিশোরগঞ্জে রাস্তা হয়ে উঠছে মরণফাঁদ, উন্নয়নে পিছিয়ে করিমগঞ্জ!

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রৌহা পর্যন্ত সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগ পথ নয় এটি হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেই করিমগঞ্জ হয়ে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা আর অপরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন ভাঙাচোরা, ঝুঁকিপূর্ণ এবং জনদুর্ভোগের যেন মরণফাঁদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ভোর থেকে গভীর রাত প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা, এমনকি কৃষিপণ্যবাহী ট্রলিও চলাচল করে নিরবচ্ছিন্নভাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যাত্রাপথটি এখন আর স্বাভাবিক নেই। সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত, কোথাও কোথাও পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের মতো দৃশ্য তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় এক যাত্রী জানান, ‘আগে এই রাস্তা দিয়ে খুব সহজে যাতায়াত করা যেত। এখন প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

বর্ষা এলেই যেন এই সড়কের দুর্দশা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো ভরে গেলে কোনটা রাস্তা আর কোনটা খাদ তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে চালকদের জন্য বাড়ে ঝুঁকি, আর যাত্রীদের জন্য বাড়ে আতঙ্ক।

রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে গর্তগুলো চোখে না পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। অনেক চালক বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে গাড়ি চালান, ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই নয়, এই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতিও। কৃষিপণ্য পরিবহনে দেরি হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে পণ্য, বাড়ছে পরিবহন খরচ। চালকদের মতে, খারাপ রাস্তার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়।

এক পরিবহন চালক বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে চললে গাড়ি ঠিক রাখা কঠিন। প্রায়ই মেরামত করতে হয়, এতে আমাদের খরচ বাড়ছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির সমস্যা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। মাঝে মাঝে অস্থায়ীভাবে গর্ত ভরাট করা হলেও তা টেকসই হয় না। কিছুদিন পর আবার একই অবস্থা ফিরে আসে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষায়, ‘দায়সারা কাজ করে লাভ নেই। স্থায়ীভাবে সংস্কার না করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন সঠিক কারিগরি পরিকল্পনা, উন্নত মানের নির্মাণ সামগ্রী এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা। কারণ পানি জমে থাকাই সড়কের দ্রুত ক্ষয় হওয়ার অন্যতম কারণ।

নিয়ামতপুর–রৌহা সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই এর উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এলাকাবাসীর একটাই দাবি দ্রুত ও টেকসই সংস্কার। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ককে আবারও নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য করে তুলবে।

হাওরের মানুষের জন্য এই সড়ক যেন আর দুর্ভোগের নয়, বরং স্বস্তির পথ হয়ে ওঠে এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

এসএনএ/মানিক