
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: রাজশাহীর -এর সিটির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুঠিপাড়া এলাকায় -এর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে নদী তীরবর্তী কয়েকশ পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তীব্র স্রোতে নদীর পাড়ে বড় বড় ধস নামে। এতে ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ঘরবাড়িতে পানি ওঠার ভয়ে পুরো কুঠিপাড়া এলাকার মানুষ সারারাত নির্ঘুম অবস্থায় আতঙ্কে কাটান।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, টেকসই নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকার কারণেই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তাদের এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের দিকে এখানে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রয়াত সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বাঁধটির সংস্কার ও সংরক্ষণে কিছু উদ্যোগ নিলেও এরপর দীর্ঘ সময় ধরে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকাটির বিএনপি নেতা নূর আলম ইসলাম বলেন, আকস্মিক এই ভাঙনে কুঠিপাড়ার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে কুঠিপাড়ার বাসিন্দারা বলছেন, নাগরিক হিসেবে নিরাপত্তা পাওয়া তাদের মৌলিক অধিকার। প্রতি বছর নদীভাঙনের আতঙ্কে বসবাস করতে না চেয়ে তারা অবিলম্বে পদ্মা নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসএনএ/মানিক
আপনার মতামত লিখুন :