
রবিউল ইসলাম,রাজশাহী ব্যুরো: মা নেই, বাবার সংসারেও নেই স্বচ্ছলতা—এর মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় দুই বছরের শিশু সিন্থিয়ার জীবন যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। অসহায় এই শিশুর দুর্দশার খবর পেয়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা।
বুধবার সকালে কিসমত গনকৈড় ইউনিয়নের গোপালপাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারটির বাড়িতে ছুটে যান ইউএনও। সেখানে গিয়ে তিনি শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের হাতে তুলে দেন নগদ ৫ হাজার টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও ফলমূল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালপাড়া গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী রিপা (২২) বেশ কিছুদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে দুই বছরের শিশু সিন্থিয়া মাতৃহীন হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে শিশুটি শারীরিক সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা চলাফেরা করতে পারে না। দরিদ্র পরিবারের এই অসহায় পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন স্থানীয় গ্রাম পুলিশ রাজু আহমেদের কাছ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
বিষয়টি জানার পর দেরি না করে বুধবার সকালে শিশুটিকে দেখতে তার বাড়িতে যান উম্মে হাবিবা ফারজানা। শিশুটিকে কাছে থেকে দেখে তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, “সকালে শিশুটিকে দেখতে তাদের বাসায় গিয়েছিলাম। পরিবারের সচ্ছলতা না থাকায় নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই পরিবারটিকে উপজেলা কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে। আমরা তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ অসহায় পরিবারটির জন্য শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তাই নয়, বরং তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
দুর্গাপুরে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি ইতোমধ্যে মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন।
মা-হারা ছোট্ট সিন্থিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে আবারও সেই মানবিকতারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দুর্গাপুরের ইউএনও—যেখানে প্রশাসনিক দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে উঠলেন অসহায় পরিবারের আশার ঠিকানা।
আপনার মতামত লিখুন :