পশ্চিমবঙ্গে শুরু হলো শুভেন্দুর বাংলাদেশি খেদাও অভিযান


বার্তা বিভাগ প্রকাশের সময় : মে ২১, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ /
পশ্চিমবঙ্গে শুরু হলো শুভেন্দুর বাংলাদেশি খেদাও অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে তথাকথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ শনাক্ত, আটক এবং পরে তাদের পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকেই শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজ্য প্রশাসন এখন থেকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্তকরণ, নাম বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার) নীতিতে কঠোরভাবে কাজ করবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া’–র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নবান্নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৪ মে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে নির্দেশ দিয়েছিল—বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে, যাতে তাদের ফেরত পাঠানো যায়। তবে আগের তৃণমূল সরকার ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকেই আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশ কার্যকর করব। যেসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত হবে, তাদের গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করা অমুসলিম অভিবাসীরা যদি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী আবেদন করার যোগ্য হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে মুসলিমদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

শুভেন্দু আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন থেকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ কার্যক্রম চালানো হবে। যদিও ‘ডিলিট’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে প্রশাসনিক সূত্রের ধারণা, তিনি ভোটার তালিকা থেকে তথাকথিত অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, পুলিশ প্রথমে বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও আটক করবে। পরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিএসএফ এরপর বিষয়টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে।

তবে ঢাকার অবস্থান সম্পর্কে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কেবল যথাযথ নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া নাগরিকদেরই ফেরত গ্রহণ করবে। কোনো পুশইন বা জোরপূর্বক পাঠানোর চেষ্টা গ্রহণ করা হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ ছিল বিজেপির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ ইতোমধ্যে অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন মূলত আটক ও ফেরত পাঠানোর ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক পরিবেশে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অতীতেও পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনি প্রচারণায় অভিযোগ করেছিলেন যে, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে ভারতের কয়েকটি রাজ্যের জনমিতিক চিত্র বদলে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পর আসামেও একই ধরনের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার ইতোমধ্যে কয়েকশ তথাকথিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে শনাক্ত ও আটক করেছে। সেখানকার ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। গত ১২ মে গুয়াহাটিতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান শেষে হিমন্ত সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ শুভেন্দুর সঙ্গে ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “খারাপ দিন শুরু হলো… আপনারা জানেন কার জন্য।”

শুভেন্দু অধিকারী জানান, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ২৭ কিলোমিটার এলাকায় নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিএসএফের জন্য নতুন বর্ডার আউটপোস্ট ও অবকাঠামো তৈরির জমিও দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটারে দ্রুত বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে। আগের সরকার এই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে বেড়া নির্মাণে সহযোগিতা করেনি বলেও তোপ দাগেন তিনি।

(সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া)