চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ


স্টার নিউজ এজেন্সি প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১০, ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ন /
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান, জীবন ও সুস্থতার সুরক্ষায় তাদের অবদান’ প্রতিপাদ্যে রোববার (৯ আগস্ট) সকালে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সমাবেশ।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলার পারগানা সভাপতি কর্নেলিয়াস মুরমু। এতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের তথ্য, যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, আদিবাসী যুবনেতা সিপোনেন মেহব্রুম, ফোরামের সম্পাদিকা মলিকা সরণ, এনজিও সিনেরিয়া ম্যানেজার ও সমাজকর্মী নিকোলাস মুরমু, আদিবাসী কোল নেত্রী কল্পনা কোল মুরমু এবং রেডিও মহানন্দার স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম টুটুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য ও প্রতিনিধিরা শোভাযাত্রা ও সমাবেশে অংশ নেন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে আদিবাসীদের অধিকার, ভূমি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন এবং ঐতিহ্যগত ভূমি দখল বন্ধে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া আদিবাসী সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাজধানী থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন এবং সাঁওতালসহ সব আদিবাসী শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা চালুর দাবি জানানো হয়। জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে আদিবাসীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও ওঠে।
সমাবেশে বক্তারা আলফ্রেড সরেন, চুডু সরেন, বাগদা ফার্মের তিন সাঁওতাল নেতা শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডী ও রমেশ টুডু, চলেশ রিছিল ও পীরেন স্নালসহ সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি দখল হয়ে যাওয়া আদিবাসীদের জমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, ‘তারা আদিবাসী, তবে আদিম নয়।’ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করলেও অনেক আদিবাসী পরিবার এখনো সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেন তারা। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও শিক্ষা ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা না পাওয়ার বিষয়টি সমাবেশে তুলে ধরা হয়।
তারা আরও বলেন, মাতৃভাষায় শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিজেদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ পরিচয়ের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
সমাবেশ থেকে ভূমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান, দখল হয়ে যাওয়া জমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত, আদিবাসীদের অধিকার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।