
মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. আমিনুল ইসলাম স্বপন (৪৫) নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইংপাড়া মোড় সংলগ্ন নির্মাণাধীন বিসমিল্লাহ টাওয়ারের দক্ষিণ পাশের একটি ফাঁকা স্থান থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত স্বপন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর বাজার (খোহার মোড়) এলাকার মো. ইলিয়াস আলীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা রয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. নাছিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. দাউদ উজ জামান আকাশ, এএসআই (নিঃ) মো. গোলাম রব্বানী, কনস্টেবল শেখ মো. রাকিব এবং চালক হিটলার জুয়েলসহ একটি দল মাদক উদ্ধার ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে মহিষালবাড়ী বাজার মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, বিসমিল্লাহ টাওয়ারের পাশে এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
সংবাদের সত্যতা যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশকে দেখে স্বপন পালানোর চেষ্টা করলে কনস্টেবল শেখ মো. রাকিবের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।
পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে পরিহিত প্যান্টের বাম পকেট থেকে একটি সাদা পলিথিনে সংরক্ষিত ৫টি নীল রঙের এয়ারটাইট প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে পরিমাপ করে উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন ১০০ গ্রাম নির্ধারণ করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। পরে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামত সিলগালা করা হয় এবং রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংরক্ষণ করা হয়।
সিডিএমএস (CDMS) যাচাইয়ে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত স্বপনের বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং একটি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :