
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: সরকারি জায়গা দখল করে কোথাও ইট বিছিয়ে পাকা করা হচ্ছে, কোথাও দোকানের সামনে বাড়ানো হচ্ছে ব্যবসার পরিসর। চলাচলের পথের পাশের জায়গাও দখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটে। এতে সংকুচিত হয়ে পড়ছে হাটের খোলা জায়গা এবং হাটবারে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
রোববার (৩০ আগস্ট) বানেশ্বর হাট ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের বিভিন্ন খোলা জায়গা ও চলাচলের পথের পাশের সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল করা হচ্ছে। কেউ দোকানের সামনের অংশে ইট বিছিয়ে পাকা করেছেন, আবার কেউ সরকারি জায়গার একাংশ নিজেদের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে হাটের উন্মুক্ত জায়গা।
হাটবারে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা আসায় হাটে ব্যাপক ভিড় হয়। এ সময় দখল হয়ে যাওয়া জায়গার কারণে চলাচলের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় যানজট ও মানুষের দুর্ভোগ। সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের চলাচলেও দেখা দেয় বাধা।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকারি জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা তৈরির প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে হাটের আরও জায়গা বেদখল হয়ে যেতে পারে। এতে হাটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বানেশ্বর হাটের ইজারাদার রাসেল সরকার বলেন, “হাটের জায়গা দখল ও পাকা করার বিষয়টি আমরা আগেও অনেকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দখল পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায়নি। হাটের বেশির ভাগ জায়গাই দখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমরা অনেকটাই নিরুপায়।”
স্থানীয়দের দাবি, হাটের সরকারি জায়গার সীমানা দ্রুত নির্ধারণ করে কোথায় কতটুকু জায়গা দখল হয়েছে, তা সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হোক। পাশাপাশি সরকারি জায়গায় নির্মিত অবৈধ পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করে হাট দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “হাটের অবৈধ জায়গা দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বানেশ্বর হাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী হাটে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। দ্রুত দখলের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এসএনএ/রবিউল
আপনার মতামত লিখুন :