ডিজির বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেটের পাল্টা চাল!


বার্তা বিভাগ প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ /
ডিজির বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেটের পাল্টা চাল!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) দীর্ঘদিনের শেকড় গেড়ে বসা দুর্নীতি ও অনিয়মের সাম্রাজ্যে আঘাত হানায় বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ হাসান মারুফের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ, কেনাকাটায় স্বচ্ছতা এবং বছরের পর বছর একই স্টেশনে পড়ে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এই স্বার্থান্বেষী মহল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজেদের অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন ডিজিকে বিতর্কিত করতে নানামুখী ‘পাল্টা চাল’ চালছে তারা।

ডিএনসির ইতিহাসে নিয়োগ মানেই ছিল কোটি কোটি টাকার লেনদেন। বর্তমান মহাপরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রথা ভেঙে ৩০৯ জন কর্মচারী নিয়োগে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা আনেন। মাত্র ১৫৫ টাকা ফি দিয়ে টেলিটকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়। অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই একটি প্রক্রিয়ার কারণে কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে দালাল ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী চক্রের। সেই ক্ষোভ থেকেই মূলত ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নীল নকশা তৈরি হয়েছে।

অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিজি হাসান মারুফ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। বছরের পর বছর একই স্টেশনে থেকে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলা কর্মকর্তাদের বদলি এবং মাদকবিরোধী অভিযানে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছেন তিনি। এই প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযানে যারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন, তারাই এখন এক জোট হয়ে ডিজির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

অধিদপ্তরের কেনাকাটা ও টেন্ডারে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর। ডিজি দায়িত্ব নেওয়ার পর সব কেনাকাটা শতভাগ সরকারি ই-জিপি (e-GP) সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসায় কমিশনভোগী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের আয়ের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় টেন্ডার সিন্ডিকেটের কয়েকশ কোটি টাকার নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়েছে।

একটি মহল ডিজিকে রাজনৈতিক তকমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মোঃ হাসান মারুফ একটি বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। ১৯৭১ সালে তার বাবা মাহাতাবুর ইসলাম পাকবাহিনীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন। গত ১৭ বছরে তিনি কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট পদে ছিলেন না; বরং দীর্ঘ সময় ঢাকার বাইরে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। পেশাদার এই কর্মকর্তাকে দমাতে এখন তার পারিবারিক পরিচয় ও ক্যারিয়ার নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা চলছে।

অধিদপ্তরকে আধুনিকায়ন করতে ডোপ টেস্ট বিধিমালা, বিভাগীয় শহরে ১৪০০ শয্যার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র এবং সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের কাজ শুরু করেছেন বর্তমান ডিজি। মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তার হাতেই গতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মাদক দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে এই আমূল পরিবর্তন যারা সইতে পারছে না, তারাই এখন রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে ব্যক্তি আক্রমণে লিপ্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিন্ডিকেটের এই পাল্টা চাল আসলে নিজেদের হারানো রাজত্ব ফিরে পাওয়ার লড়াই। জনস্বার্থেই একজন সংস্কারমুখী ও সৎ কর্মকর্তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন অপরাধ ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।