মহানন্দা সেতু টোলমুক্ত করার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন
রাজশাহীতে আলোচিত নারী শিক্ষিকার নিয়োগে জালিয়াতি:২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ
ফেসবুক পরিচয় বেড়াতে এসে মুল্যবান জিনিস পত্র চুরি— উল্টো হুমকি; খিলক্ষেত থানায় অভিযোগ
কমিশন নেই, নড়ছে না হাসিনা পরিবারের দুর্নীতির ফাইল
নওগাঁর নিয়ামতপুরে মধ্যরাতে মাদকবিরোধী অভিযান: ৮০০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২
রাজশাহীতে র্যাবের অভিযান: ২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
স্বপ্ন কেড়ে নিল চোর: দুর্গাপুরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তুহিনের স্কুলে যাওয়ার একমাত্র ‘পা’ চুরি
চারঘাটে লিগ্যাল এইড কমিটির দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
দাওকান্দি কলেজের সেই নারী ‘শিক্ষিকা’ নন, প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ: বরখাস্তের নির্দেশ
কৃষিকে বাণিজ্যিক ও লাভজনক করতে দুর্গাপুরে কৃষি অফিসার সাহানা পারভীনের নেতৃত্বে ‘পার্টনার’ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে কয়েকজনকে মারধরের ঘটনায় সম্প্রতি আলোচিত নারী শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে জানা গেছে, অন্য এক শিক্ষিকার ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন–ভাতা উত্তোলন করেছেন। এভাবে ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজের জনবল কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট পদ অনুমোদিত না থাকা সত্ত্বেও আলেয়া খাতুনকে সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রদর্শক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। পরে অন্য শিক্ষিকার ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হন।
তদন্তে কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০২ সালের ১৮ জানুয়ারি কেবল রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সংবাদ পত্রিকায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। জাতীয় কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি আলেয়া খাতুন সাচিবিক বিদ্যা বিভাগের প্রদর্শক পদের জন্য আবেদন করেন। পরে ৮ মে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর শিরিন সুফিয়া খানম উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আলেয়া খাতুন দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজে যোগ দেন। সে সময় কলেজটি জাতীয়করণ হয়নি। কিন্তু ১৯৯৫ সালের ২৪ অক্টোবর এবং ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির জনবল কাঠামোয় সাচিবিক বিদ্যা বিভাগের প্রদর্শক বা প্রশিক্ষক পদের কোনো অনুমোদন ছিল না। এ কারণে দীর্ঘ সময় তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।
তদন্তে উঠে এসেছে, কলেজটিতে আগে থেকেই চামেলী খাতুন নামে একজন প্রশিক্ষক কর্মরত ছিলেন। তাঁর ইনডেক্স নম্বর ছিল ৮৪৫৪১০।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে আলেয়া খাতুন ওই ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হন। কিন্তু এর আগে থেকেই, অর্থাৎ ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত কলেজের এমপিও শিটে চামেলী খাতুনের নাম বহাল রেখে ওই ইনডেক্স নম্বরের বিপরীতে বরাদ্দ হওয়া সরকারি বেতন–ভাতা নিয়মিত উত্তোলন করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের সহযোগিতায় তথ্য গোপন করে আলেয়া খাতুন এই সময়ের মধ্যে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে তুলে আত্মসাৎ করেছেন।
সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর তাদের প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে—আত্মসাৎ করা টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দিতে হবে।
জালিয়াতির মাধ্যমে হওয়া আলেয়া খাতুনের এমপিও বাতিল করতে হবে।
তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০১৮ অনুযায়ী পদার্থ, রসায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণীবিজ্ঞান বিষয়ে ল্যাব চালু থাকলে প্রতি বিষয়ে একজন করে প্রদর্শক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
তবে সাচিবিক বিদ্যা বিভাগের জন্য প্রদর্শক বা প্রশিক্ষক পদের কোনো উল্লেখ নেই। ফলে আলেয়া খাতুনের নিয়োগ এবং পরবর্তী এমপিওভুক্তি পুরো প্রক্রিয়াই নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :