দাওকান্দি কলেজের সেই নারী ‘শিক্ষিকা’ নন, প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ: বরখাস্তের নির্দেশ
কৃষিকে বাণিজ্যিক ও লাভজনক করতে দুর্গাপুরে কৃষি অফিসার সাহানা পারভীনের নেতৃত্বে ‘পার্টনার’ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি গাজীপুর এর ঈদ পূর্ণমিলনী ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
মাড়িয়ায় নুরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নে ইসলামী জলসা: শিল্পপতি সাকলায়েনের অনুদান
গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক যাত্রাবিরতি, নববর্ষে জনসমুদ্রের উচ্ছ্বাসে উষ্ণ অভ্যর্থনা
মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে কৃষক দলের নেতার সংবাদ সম্মেলন
পূর্ব শত্রুতার জেরে দুর্গাপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
গাজীপুর মহানগরের ৪৭নং ওয়ার্ডে ওরিয়েন্ট ক্লাবের উদ্যোগে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়
সারের কৃত্রিম সংকট ও অনিয়ম রোধে কৃষি কর্মকর্তার কঠোর হুঁশিয়ারি
প্রসূতি মায়েদের জন্য সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং সেবা চালু করল সিএমএইচআর

স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে স্থাপত্যকে কেবল রূপ বা নান্দনিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। বরং জলবায়ু চাপ, মানুষের সহনশীলতা এবং স্থানিক বাস্তবতার প্রতি অর্থবহ ও সংবেদনশীল সাড়া দেওয়াই স্থাপত্যের প্রধান দায়িত্ব।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে তাঁর নতুন বই Meditations in Entropy: The Work of Kashef Chowdhury / URBANA–এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আর্কিকানেক্ট’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় তিন দশকের স্থাপত্যচর্চার অভিজ্ঞতা ও দর্শন তুলে ধরেন কাশেফ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, গত প্রায় ২০ বছর ধরে জলবায়ু-সংবেদনশীল সামাজিক প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এই বইয়ের জন্ম। বইটিতে বর্তমান বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কম বাজেটে আলো-ছায়াকে নকশার প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার, গ্রামমুখী চিন্তা, শহরমুখী অভিবাসনের বিপরীতে গ্রামে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ এবং গ্রামীণ সমাজভিত্তিক ছোট ছোট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
কাশেফ চৌধুরী বলেন, “এই বই কোনো স্থাপত্য-অবয়বের উদযাপন নয়; বরং এটি একটি প্রক্রিয়ার প্রতিফলন—যেখানে সংযম, প্রেক্ষাপট ও সহমর্মিতা থেকে স্থাপত্যের জন্ম হয়।”
বইটিতে স্কেচ, নকশা, আলোকচিত্র ও বিশ্লেষণধর্মী লেখার মাধ্যমে গত ৩০ বছরের স্থাপত্যচর্চা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন পরিসর ও ধরনে বাস্তবায়িত ১৮টি প্রকল্পের ইতিহাস স্থান পেয়েছে।
এতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থাপত্য আলোকচিত্রী হেলেন বিনের আলোকচিত্র ছাড়াও কেনেথ ফ্র্যাম্পটন, উইলিয়াম জে. আর. কার্টিস, রবার্ট ম্যাককার্টার, আইনুন নিশাত এবং ফিলিপ উরস্প্রুং-এর সমালোচনামূলক প্রবন্ধ সংযোজিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেতো রেংগ্লি, বিশিষ্ট স্থপতি, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার বলেন, কাশেফ চৌধুরীর কাজ প্রমাণ করে, নকশা কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়নের চ্যালেঞ্জের প্রতি বুদ্ধিদীপ্ত ও সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, আগামী ৫০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের আরও কঠিন বাস্তবতা মানবসভ্যতাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ও চাষাবাদের প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মি. রেতো রেংগ্লি বলেন, কাশেফ চৌধুরীর এই বই আগামী দিনের স্থাপত্যচর্চার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :