সর্বশেষ :

সেনানিবাসে আশ্রয় থেকে হত্যা মামলার আসামি, পতন হলো শিরীন শারমিনের


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৮, ২০২৬ । ১:১০ পূর্বাহ্ণ
সেনানিবাসে আশ্রয় থেকে হত্যা মামলার আসামি, পতন হলো শিরীন শারমিনের

মো. মানিক হোসেন: রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যে জীবন বাঁচাতে একদিন সেনানিবাসে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সেই একই জীবনের পরিণতি এখন কারাকক্ষ। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের চাকা উল্টো ঘুরে এখন গিয়ে ঠেকেছে হত্যা মামলার আসামির কাঠগড়ায়। দেড় বছরের দীর্ঘ আত্মগোপন শেষে মঙ্গলবার ভোরে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

২০০৯ সালে সংরক্ষিত আসন দিয়ে শুরু হওয়া রাজনৈতিক পথচলা ২০১৩ সালে তাকে বসিয়েছিল জাতীয় সংসদের সর্বোচ্চ আসনে। টানা তিন মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী গত ৫ই আগস্ট পর্যন্ত ছিলেন ক্ষমতার অন্যতম ভরকেন্দ্র। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন থেকেই তার পতনের শুরু। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেদিন প্রাণভয়ে সংসদ ভবনের একটি কক্ষে লুকিয়ে থেকে মধ্যরাতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সেনানিবাসে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাকে।

আইএসপিআর জানিয়েছিল, মানবিক কারণে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে রক্ষা করতেই তাকে সেনানিবাসে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে বিদায় নেন। কিন্তু সেনানিবাস থেকে বের হওয়ার পর কোথায় ছিলেন তিনি? দেড় বছর ধরে চলা এই রহস্যের জট খুলেছে মঙ্গলবার ভোরে। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এতদিন দেশেই বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। যে বাসা থেকে তিনি ধরা পড়েছেন, সেটি তার স্বামীর নামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এক সময়ের স্পিকার এখন লালবাগ ও রংপুরের একাধিক হত্যা মামলার আসামি। এজাহার অনুযায়ী, জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের সময় শ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহতের ঘটনায় তাকে সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার লালবাগে হওয়া আরেকটি হত্যা মামলাতেও তাকে প্রধান আসামিদের তালিকায় রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত রিমান্ড ও জামিন উভয়ই নামঞ্জুর করে তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এক সময়ের দাপুটে এই স্পিকারকে কড়া পুলিশি পাহারায় যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তখন সেটি ছিল কোনো এক সময়ের অপরাজেয় এক ক্ষমতার দম্ভ চুরমার হওয়ার প্রতিচ্ছবি।

পুলিশ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে তাকে অন্যান্য মামলাগুলোতেও গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দেড় বছরের লুকোচুরি শেষ হলেও শিরীন শারমিনের জন্য আইনি লড়াইয়ের কঠিন পথ সম্ভবত কেবল শুরু হলো।

পুরোনো সংখ্যা

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: