
রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বৈরাগীর খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মধ্য দিয়ে এই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ডালিতে মাটি পরিবহন করে কাজের সূচনা করেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন ও সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২৫-৩০ অর্থবছরের মেয়াদে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পবা উপজেলার বৈরাগীর খালের তিন কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে।
পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত এই ৩ কিমি খনন কাজের জন্য ১ কোটি ২৯ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭৬ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খালের পানি ফলিয়ার বিল হয়ে দুর্গাপুর উপজেলার হোজা নদীতে গিয়ে মিলিত হবে। এতে ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্ষায় পানি নিষ্কাশন সহজ হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দীর্ঘদিন খালগুলো ভরাট থাকায় কৃষকরা সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতায় ভুগছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে যাতে উন্নয়ন সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব সুফল বয়ে আনে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এই লক্ষ্যেই কৃষির উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ফসলের ক্ষতি কমবে এবং কৃষকরা বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন।
পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও জানান, প্রকল্পের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে। একইসাথে স্থানীয় কৃষকরাও এই উদ্যোগে অত্যন্ত খুশি। কৃষক কদম আলী ও মুনতাজ আলীর মতে, খালটি সচল হলে অনেক অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসবে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমবে।
অনুষ্ঠানে পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :