
রাজশাহী টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)-এর অধ্যক্ষ নাজমুল হকের বিরুদ্ধে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি, তথ্য অধিকার আইনের আবেদন গ্রহণে বাধা এবং সংবাদকর্মীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক সাংবাদিক।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল থেকে টিটিসির বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের জন্য ওই সাংবাদিক একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটিতে যান। অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ নাজমুল হক তথ্য প্রদানে গড়িমসি করে তাকে বারবার ঘুরিয়ে দেন। সর্বশেষ ২৯ এপ্রিল সাংবাদিক তথ্য চাইলে অধ্যক্ষ তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অধ্যক্ষ হুমকি দিয়ে বলেন—প্রতিষ্ঠান বা তাকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি এর আগে কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করে ‘শায়েস্তা’ করেছেন বলেও তিনি দম্ভোক্তি করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, গত ৪ মে তিনি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দিতে গেলে অধ্যক্ষ তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। প্রথমে তিনি পরোক্ষভাবে ‘সহযোগিতা’র (অনৈতিক সুবিধা) প্রস্তাব দেন, যা প্রত্যাখ্যান করায় তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ভবিষ্যতে টিটিসিতে ওই সাংবাদিকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারিরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী লঙ্ঘিত ধারাগুলো হলো
ধারা ৮: নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও তা করা হয়নি।
ধারা ৯: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য প্রদানের বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, “টিটিসির অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য যাচাই করতে গিয়ে আমি পেশাগত বাধার মুখে পড়েছি। তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও সহযোগিতা পাইনি, উল্টো আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর্যাপ্ত অডিও রেকর্ড আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষ নাজমুল হক অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিক যে তথ্যগুলো চেয়েছেন, সেগুলো সরাসরি দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। এ জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই সাংবাদিক গত দুই বছরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা, ক্রয় ও বাজেট সংক্রান্ত বিবরণ, অতিথি প্রশিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, জব প্লেসমেন্ট এবং চলমান কোর্সের তথ্য চেয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য অধিকার আইনের ৭ ধারার ব্যতিক্রমী তালিকাভুক্ত না হলে এসব তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক।
আপনার মতামত লিখুন :