ফরিদপুরে হ্যান্ড মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজালেন যুবলীগ কর্মী
চাঁদা না দেয়ায় স্ত্রীর সামনেই স্বামী গণেশ পালকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা
বাংলাদেশে তেলের কোনো সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী
ইমাম নিয়োগ নিয়ে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ, নিহত এক
নড়াইলে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ২০
রাজধানীতে ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ উপজেলা ফোরামের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত
১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড বিতরণ: রাষ্ট্রপতি
মুজিব নামে টয়লেট! বিদেশ থেকে এলো ছাত্রলীগের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
‘ইসরায়েলের হয়ে কেউ লড়তে চায় না’ বলে সাবেক মেরিন সেনার চিৎকার
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ফোন ‘সিরিন ফিনি’

তুরস্কের কুর্দিস্তান আরবিল এলাকায় একটি প্লাস্টিক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে কর্মস্থলের শয়নকক্ষ থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। নিহতরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) এবং তাঁর একমাত্র ছেলে সাব্বির মিয়া (২২)। এই ঘটনায় সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন মিয়া (২৬) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার কাজ শেষে রাতে খাবার খেয়ে বাবা-ছেলেসহ মোট পাঁচজন একই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন বুধবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কক্ষে ঢুকে তাদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। দ্রুত তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তারেক ও সাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে তুর্কি পুলিশের ধারণা, রাতের খাবারে বিষক্রিয়া থেকেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ফেনী জেলার আরও এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত তারেক মিয়া দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তুরস্কে প্রবাস জীবন অতিবাহিত করছিলেন। দুই বছর আগে তিনি একমাত্র ছেলে সাব্বিরকেও সেখানে নিয়ে যান। সাব্বিরের এক বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এদিকে তারেক মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী পারভিন আক্তার স্বামীর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ভিডিও কলে বিয়ে হওয়ায় স্বামীকে এখনো সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি তাঁর। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, “আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার স্বামীর মুখটা এখনো সরাসরি দেখা হলো না। সরকারের কাছে দাবি, অন্তত তাঁদের লাশগুলো যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”
তারেক ও সাব্বিরের অকাল মৃত্যুতে মেড্ডা গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ঢল নেমেছে। শোকাতুর পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো প্রিয়জনদের দেখার আকুতি জানিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :