বাংলাকে ধারণ করতে হলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না: জ্বালানিমন্ত্রী টুকু
পাকিস্তানে পালিত হল মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
বগুড়ায় এনসিপি নেতা সাগর গ্রেফতার: অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে ছয় জন আটক
মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি খামেনির: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ! চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ!’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পোস্ট ভাইরাল
ভারতবিরোধী অবস্থান, পুলিশ পুড়িয়ে হত্যায় অভিযুক্ত মাহদীকে আশ্রয় দিল না ভারত
টঙ্গীতে মাতৃভাষা দিবস পালন—শহীদ বেদিতে সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা
ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে ডাবসহ ভ্যান ছিনতাইয়ের অভিযোগ
শহীদ মিনারে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে এমপি রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সম্ভাব্য দুর্নীতি, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং বৈদেশিক চুক্তিগুলো খতিয়ে দেখতে দ্রুত একটি ট্রানজিশন টিম (উত্তরণকালীন দল) গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য একটি স্বাধীন ট্রানজিশন টিম জরুরি। এই টিম প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনকেও যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের টিম সাধারণত সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং প্রয়োজনে ফরেনসিক তদন্ত পরিচালনার সক্ষমতাও থাকে।
একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত বিভিন্ন বিদেশি ক্রয় ও চুক্তি পুনর্বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, এসব চুক্তির অনেক বিষয় এখনো জনসমক্ষে পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি, ফলে নতুন সরকারের ওপর কী ধরনের দায় সৃষ্টি হয়েছে তা নিরূপণে পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, একটি কার্যকর ট্রানজিশন টিম গঠিত হলে তাদের তদন্তের ভিত্তিতে একটি ‘ব্লু বুক’ প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। এতে সরকারের বর্তমান আর্থিক দায়-দেনা, বাস্তব অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা যাবে। তিনি মনে করেন, দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাস্তবসম্মত।
অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের জন্য দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন এবং কঠোর বাজেট-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে—দুর্বল সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কমে যাওয়া বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস এবং নতুন বড় প্রকল্প গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বনের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতেই সঠিক নীতিগত দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা গেলে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :