জলবায়ু ও মানবিক দায়বদ্ধতায় স্থাপত্যের ভূমিকার কথা বললেন কাশেফ চৌধুরী
রাজশাহী-৫: নজরুল ইসলামের পক্ষে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা
রাজশাহী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বার্ষিক মিলনমেলা ও বনভোজন রবিবার
রাজশাহী-৫ আসনে মনজুর রহমানের গণসংযোগে ভোটের মাঠে নতুন গতি
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ ও পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা: রাজশাহীতে তারেক রহমান
পুঠিয়ায় ৩ মৃত্যু: ঘাতক বাস চালক ও গুজব ছড়ানো মূল হোতা গ্রেপ্তার
উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযোগ্য মর্যাদায় বৃহত্তর টঙ্গী প্রেস ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
লুণ্ঠিত পুলিশের পোশাক ও ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার
শহীদ জিয়ার ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজশাহীতে শীতবস্ত্র বিতরণ
শহীদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে রাজশাহীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

রবিউল ইসলাম, রাজশাহীঃ দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জনসমুদ্রে ভাষণ দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২২ বছর পর রাজশাহীর মাটিতে তার এই ভার্চুয়াল উপস্থিতি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বক্তৃতায় তিনি কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলেননি, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোচাতে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ ও ‘কৃষিঋণ মওকুফ’-এর মতো বৈপ্লবিক একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কৃষিনির্ভর উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক মানুষের জন্য তারেক রহমান এক বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে- ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ: ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ (সুদসহ) সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে, সেই সাথে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে এবং ব্যাংক ঋণ সহজ করতে ডিজিটাল ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে।
শহীদ জিয়ার শুরু করা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পকে আধুনিকায়ন এবং খাল খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন।
রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের পানির সংকট নিরসনে তিনি ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের সাহসী ঘোষণা দেন। তারেক রহমান বলেন, “বিগত ১৬ বছর যে উন্নয়ন থমকে ছিল, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে আমরা উত্তরবঙ্গের কৃষিতে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনব।” এছাড়া রাজশাহীর আম চাষীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে আম সংরক্ষণে বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রতিটি পরিবারের মায়ের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে সরাসরি মাসিক আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
চিকিৎসার জন্য মানুষের বিদেশমুখীতা কমাতে এবং দরিদ্রদের আধুনিক সেবা নিশ্চিতে রাজশাহীতেই উন্নত ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
রাজশাহীর ঝিমিয়ে পড়া আইটি পার্ক সচল করার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের ওপর জোর দেন তিনি। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করার রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন “১৯৭১-এর স্বাধীনতা বা ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান—কোনো লড়াইয়েই আমরা ধর্ম দেখিনি, দেখেছি মানুষ। এখন সময় এসেছে জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।”
বক্তৃতার শেষে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উস্কানি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেন। তিনি হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচন হবে ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই’।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে নাটোর রাজশাহী চাঁপাই নবাবগঞ্জের ধানের শীষ প্রতীকের সবাইকে মঞ্চে ডেকে ধানের শীষ হাতে তুলে দিয়ে সাধারণ ভোটারের উদ্দেশ্যে বলেন ইনারা আপনাদের আমানত ১২ তারিখ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদের , তারপরের দায়িত্ব ইনাদের।
আপনার মতামত লিখুন :