পথচারী ও রোজাদারদের মাঝে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের ইফতার বিতরণ
বাউফলে ছাত্রদলের উদ্যোগে কুরআন খতম ও ইফতার মাহফিল
সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করলেন দুই ছেলে! লাশের পাশে বৃদ্ধা মা
ইরানি নারী ফুটবল দলকে আশ্রয় দেবে ট্রাম্প
কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে উদ্বোধন হলো ‘শিশু কর্ণার’
নওহাটায় সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
টঙ্গীতে সাংবাদিকদের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা, থানায় অভিযোগ
গাজীপুরে সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
ফরিদপুরে হ্যান্ড মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজালেন যুবলীগ কর্মী

রবিউল ইসলাম, রাজশাহী: রাজশাহীর দুর্গাপুরে ব্যবসায়িক পার্টনারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার পারিশ্রমিক না পেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক তুহিন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তুহিন অভিযোগ করেন, দীর্ঘ চার বছর ধরে পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় তিনি মানসিকভাবে চাপে এবং যদি তার পাওনা ফেরত না দেওয়া হয় তা হলে শেষ উপায় হিসেবে তিনি আত্মহত্যার পথে যেতে বাধ্য হবেন বা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে তুহিন বলেন, “পাওনা টাকা না পেলে নিশ্চিত আমার মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। পাওনাদাররা আমাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। তাদের কাছে আমি একেবারেই অনিরাপদ।’’
তুহিনের দাবি, তিনি দুর্গাপুরের মাড়িয়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের সঙ্গে অংশীদারিত্বে একটি পুকুর খনন ও মাছ চাষের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আশা ও বিশ্বাস নিয়ে আমরা ব্যবসা শুরু করি। পরে আমিনুল ইসলাম ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অজুহাতে সব পুকুর নিজের নামে লিখে নেন, আমি সহজভাবে তাতে সম্মতি দিই। কয়েক মাসের মধ্যে তিনি একে একে পুকুরের সব মাছ বিক্রি করে দিতে শুরু করেন।’’
দুই পার্টনারের মধ্যে হিসাব-নিকাশ, মূলধন ও লাভের ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তুহিন আরো জানান, ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি দুর্গাপুরের তৎকালীন পৌর মেয়র সাইদুর রহমান মন্টুকে বিষয়টি জানালে মেয়র তিন সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করেছিলেন—সন্তোষ, হাতেম আলী ও মকলেস আলী—যারা উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে হিসাব-নিকাশ করে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা তুহিনের পাওনা হিসেবে নির্ধারণ করেন। এরপর উভয় পক্ষের স্বাক্ষরে একটি আপোষনামাও করা হয়।
তবে, দাবি করেন, আপোষনামার পরও দীর্ঘ প্রায় চার বছর অতিবাহিত হলেও আমিনুল ইসলাম সেই টাকা পরিশোধ করেননি। টাকা দাবি করলে উল্টো চাঁদাবাজির হুমকি দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করে—যার ফলে তুহিন ৪ দিন কারাবরণও করেছেন। বর্তমানে তুহিন বলছেন, পাওনাদারদের হুমকির ভয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তুহিন অভিযোগ করেন, আমিনুল ইসলাম তার সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জামাইয়ের প্রভাব ব্যবহার করে তাকে দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি মাছ চুরির একটি মামলা করেছিলাম, কিন্তু, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। ফলে ন্যায় পাওয়ার কোনো পথ নেই।”
সংবাদ সম্মেলনে তুহিন প্রশাসনের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, “অপকর্মীদের বলব—কোনো ব্যক্তি নিজস্ব ক্ষমতা ও প্রভাবে অন্যকে আর নির্যাতন করতে পারবে না। প্রশাসন যদি সক্রিয় হোন তবেই আমার মতো হতভাগ্য মানুষের ন্যায় মিলবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক কামলা ও ফজলুর রহমান। তারা তুহিনকে সমর্থন জানিয়ে প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরজি করেন। উপস্থিতরা বলেন, ব্যক্তিগত ঝামেলা-দ্বন্দ্বে আইনকে অশ্রুপ্রবাহে ভাসিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়; যেখানে কাগজে-কলমে নির্ধারিত পাওনা থাকা সত্ত্বেও তা পরিশোধ না করা হচ্ছে, সেখানে স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক ঝুঁকি ও চাপ বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় জনমত ও সচেতন মহলের কথায়, ব্যবসায়িক আপোষনামা ও বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পাওনা দীর্ঘ সময় ধরে আদায় না করা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের কাছে আইনি সহায়তা ও স্থানীয় প্রশাসনিক নজরদারি জরুরি। অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত যদি কার্যকর হয় না তবে ক্ষতিগ্রস্তরা বিকল্প পথে অনুপ্রবেশ অথবা চরম অবস্থান নিতেই পারে—যা সামাজিক অস্থিতিশীলতার কারণও হতে পারে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম বা তার পক্ষে কেউ এখনও বক্তব্য দেননি। ঘটনার ন্যায্য তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এ বিষয়ে আগের কোনো নোটিশ কিংবা পদক্ষেপ সম্পর্কে তুহিন কোন তথ্য প্রকাশ করেননি; তিনি পুনরায় প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :