প্রকাশের সময় :
রবিউল ইসলামঃ রাজশাহীর দুর্গাপুরে কৃষিখাতের আমূল পরিবর্তন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং আধুনিক বাণিজ্যিক কৃষি প্রসারের লক্ষ্যে দিনব্যাপী ‘পার্টনার’ কংগ্রেস ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ” (পার্টনার) শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় উপজেলা কৃষি অফিসার
অনুষ্ঠানটির মূল রূপকার ও আয়োজক হিসেবে উপজেলা কৃষি অফিসার সাহানা পারভীন লাবনী তার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে বলেন:
“আমরা কেবল উৎপাদন বাড়াতে চাই না, বরং কৃষকদের একটি সংগঠিত বাণিজ্যিক শক্তিতে রূপান্তর করতে চাই। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই দুর্গাপুরের কৃষকরা বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারবে।”
তার এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে কৃষি অফিসার সাহানা পারভীনের উপস্থাপনায় উঠে আসা প্রধান বিষয়গুলো হলো:
কৃষকদের এককভাবে কাজ না করে সংগঠিত হয়ে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা।রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে পুষ্টিকর ও নিরাপদ ফসল উৎপাদন। উৎপাদন খরচ কমিয়ে মুনাফা বাড়াতে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির প্রসার। সাধারণ কৃষককে কৃষি উদ্যোক্তায় রূপান্তর করা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষি অফিসের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান,মাশতুরা আমিনা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দুর্গাপুর। লায়লা নূর তানজু, সহকারী কমিশনার (ভূমি)। মোঃ আঃ লতিফ, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার (পার্টনার প্রকল্প)। কামারুজ্জামান আয়নাল, আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ৭০ জন নির্বাচিত কৃষক-কৃষাণী এই কর্মশালায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসারের এ ধরনের উদ্যোগ তাদের আধুনিক চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা দুর্গাপুরের কৃষি অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।