প্রকাশের সময় :
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ‘এনার্জি শক’ তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইরানের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে দৈনিক তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কার্যত উধাও হয়ে গেছে।
এই বিপুল পরিমাণ সরবরাহ ঘাটতি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ১২ শতাংশ, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। সরবরাহের এই বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে না পেরে ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলো এখন তীব্র অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
বাজারের এই অস্থিরতা কেবল শতাংশের হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা মূল্যমানের সকল রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। বর্তমানে ভৌত বাজারে (Physical Market) তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য শোধনাগারগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে ১৫০ ডলারের কাছাকাছি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪৭.৫০ ডলারের যে ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করেছিল, বর্তমান সরবরাহ সংকট সেই সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। যদিও ফিউচার মার্কেটে গত মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯.৫০ ডলারে থমকে ছিল, কিন্তু বাস্তবে তেলের দখল নিতে এর চেয়ে অনেক বেশি প্রিমিয়াম দিয়ে তেল কিনতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই জটলা বিশ্ব তেলের মানচিত্রকে ওলটপালট করে দিয়েছে। প্রতিদিনের এই ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের বিকল্প হিসেবে এখন ইউরোপ ও আফ্রিকার স্বল্প সালফারযুক্ত তেলের ওপর সব দেশ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ফলে বাজারে এক অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে জুন মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত চুক্তিগুলোতেও দামের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ বজায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার ব্যাপকভাবে সংকুচিত হবে এবং আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।