প্রকাশের সময় :
আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় চট্টগ্রামের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টিভি ‘সি ভিশন’-এর সাংবাদিক আরিয়ান লেনিনের বিরুদ্ধে এস এ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের দায়েরকৃত ১০০ কোটি টাকার মিথ্যা মানহানি মামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে চট্টগ্রামের কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী ও দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এস এ গ্রুপের এমডি শাহাবুদ্দিন আলম এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এই নির্ভেজাল সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংবাদ আকারে প্রকাশ করায় সাংবাদিক আরিয়ান লেনিনকে আসামী করে ১০০ কোটি টাকার ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, যেখানে শাহাবুদ্দিন আলম গং-এর বিরুদ্ধে ব্যাংক লুট ও ঋণখেলাপিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়। বক্তারা জানান, মামলার পর এস এ গ্রুপের পণ্য ‘গোয়ালিনী ফুল ক্রিম মিল্ক’-এর ফেসবুক পেজে সাংবাদিক আরিয়ান লেনিনের ছবি ব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ এই ‘গোয়ালিনী’ গুড়ো দুধ ভেজাল ও নিম্নমানের হওয়ায় তা বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। নিজের অপরাধ ঢাকতে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল পেজে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন কুৎসা রটানোকে সাংবাদিক সমাজ আধুনিক সময়ের চরম ধৃষ্টতা বলে অভিহিত করেন।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে সাংবাদিক আরিয়ান লেনিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং এস এ গ্রুপের এমডি শাহাবুদ্দিন আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ব্যাংক লুটের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
অন্যথায় চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ কঠোরতর আন্দোলনের ডাক দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সমাবেশে জার্নালিস্ট ক্লাব, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরাম এবং চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।