প্রকাশের সময় :
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তাদের ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনে অংশ নেওয়া নভোচারীদের হাতে এবার দেখা গেছে আধুনিক স্মার্টফোন আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স।
বুধবার মহাকাশযানের ককপিটে আইফোন ভেসে বেড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো মিশনের পর এবারই প্রথম চাঁদে মানুষ পাঠানোর উদ্দেশ্যে আর্টেমিস-২ মিশন পরিচালনা করছে নাসা। এই মিশনের নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন, রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার এবং ক্রিস্টিনা কোচের হাতে একটি করে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স তুলে দেওয়া হয়েছে। মিশন শুরু হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর মহাকাশযানে মাধ্যাকর্ষণহীন অবস্থায় ফোনগুলো ভাসতে দেখা যায়।
তবে সাধারণ গ্রাহকদের মতো নভোচারীরা এই ফোন দিয়ে ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা ফেসটাইম করতে পারছেন না। নাসার কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে ফোনগুলোর ইন্টারনেট ও ব্লুটুথ সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এগুলো মূলত মহাকাশ থেকে উচ্চমানের স্থিরচিত্র এবং ভিডিও ধারণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালা দিয়ে রকেটের বিচ্ছিন্ন হওয়ার দৃশ্য এবং মহাকাশের অভাবনীয় কিছু মুহূর্ত এই ফোনের লেন্সেই বন্দি করেছেন নভোচারীরা।
নাসার তথ্যমতে, মহাকাশে কোনো কাঁচযুক্ত হার্ডওয়্যার পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কাঁচ ভেঙে গেলে তা শূন্য অভিকর্ষে নভোচারীদের চোখের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। দীর্ঘ কয়েক বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সকে মহাকাশে ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফোনগুলো হারিয়ে যাওয়া রোধে সেগুলোতে বিশেষ ‘ভেলক্রো’ ফিতা লাগানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে নভোচারীরা দেয়ালে বা স্যুটের সঙ্গে আটকে রাখতে পারেন।
মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাদার ক্যামেরার পাশাপাশি আইফোনের মতো আধুনিক ডিভাইস ব্যবহারের ফলে মহাকাশ অভিযানের আরও নিখুঁত এবং বাস্তবসম্মত ছবি ও ভিডিও দ্রুত সময়ের মধ্যে পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এটি মহাকাশ গবেষণায় সাধারণ ভোক্তা প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক।