গাজীপুর মহানগরের ৪৭নং ওয়ার্ডে ওরিয়েন্ট ক্লাবের উদ্যোগে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়
সারের কৃত্রিম সংকট ও অনিয়ম রোধে কৃষি কর্মকর্তার কঠোর হুঁশিয়ারি
প্রসূতি মায়েদের জন্য সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং সেবা চালু করল সিএমএইচআর
‘তারেক রহমানের কাছে আন্দোলনের ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ এনেছেন ড. ইউনূস’
সেনানিবাসে আশ্রয় থেকে হত্যা মামলার আসামি, পতন হলো শিরীন শারমিনের
বিশ্ববাজারে ১২ শতাংশ তেল উধাও, ব্যারেল প্রতি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে ১৫০ ডলার
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এস এ গ্রুপের শতকোটি টাকার মামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
মহাকাশে প্রথমবার আইফোন ব্যবহার করছেন নাসার নভোচারীরা
গোদাগাড়ীতে নাবিল গ্রুপের দাপট: রাতের আঁধারে বর্জ্য ফেলে কৃষি ও কৃষককে ধ্বংসের পাঁয়তারা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি: আসন্ন সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের করণীয় বিষয়ে গাজীপুর মহানগরে আলোচনা সভা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নে কৃষি ও কৃষকের ওপর এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে তিন ফসলি জমিতে রাতের আঁধারে ফেলা হচ্ছে পোল্ট্রি খামারের বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত বর্জ্য। প্রভাবশালী নাবিল গ্রুপের এই বেপরোয়া ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডে এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে, আর চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোয় প্রতিরোধের মুখে পড়ার ভয়ে গভীর রাতে (রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে) নাবিল গ্রুপের মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্যবোঝাই ট্রাকগুলো কমলাপুর গ্রামে ঢোকে। কোনো ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়াই এসব বর্জ্য ফসলি জমি ও খাড়ির পাশে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায় চালকরা। আগে এসব বর্জ্য জেলার বাইরে নেওয়া হলেও এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে এই তিন ফসলি মাঠকেই ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে।
সকাল হতেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র দুর্গন্ধ। ঘরবাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও রক্ষা পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি ও মৎস্য খাত। বর্জ্যের কারণে মাছির উপদ্রব এতই বেড়েছে যে, তা ধানের শীষসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। বৃষ্টির পানিতে বিষ্ঠা মিশে খাড়ির পানি কালো ও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে, যা জমিতে সেচ দেওয়ার অনুপযোগী। আশপাশের পুকুরগুলোতে মাছের মড়ক দেখা দেওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় হযরত আলী নামের এক ব্যক্তির আশ্রয়ে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা জমিতেই এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে হযরত আলীর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন এবং নাবিল গ্রুপের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয়দের ওপর চড়াও হন। এমনকি সাংবাদিকদের সামনেই এক ভ্যান চালককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন তিনি। তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, এই বর্জ্যগুলো নাবিল গ্রুপের খামার থেকেই আসছে।
নাবিল গ্রুপের পক্ষ থেকে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হলেও এবং তাদের ঠিকাদাররা প্রশাসনের ‘ভুয়া’ অনুমতির দাবি করলেও, সত্য বেরিয়ে এসেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, “প্রশাসনের অনুমতির দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা রাতের আঁধারে লুকিয়ে এগুলো ফেলছে বিধায় ধরা কঠিন হচ্ছে। এর আগেও তাদের জরিমানা করা হয়েছে। এবার আমরা তাদের তলব করেছি এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা অফিস জানিয়েছে, পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো কাজ করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসহায় কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে নাবিল গ্রুপের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। নতুবা দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয়ে বিলীন হয়ে যাবে অত্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষক।
আপনার মতামত লিখুন :