প্রকাশের সময় :
জাতীয় সংসদে এক আবেগঘন ও কড়া বক্তব্যে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভয়াবহ এক অপরাধের চিত্র তুলে ধরেছেন দেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, গত নির্বাচনে শুধুমাত্র তার নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলাকলি’তে ভোট দেওয়ার কারণে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে, অথচ আজ পর্যন্ত সেই ঘটনার কোনো বিচার মেলেনি।
রবিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনাকালে এনসিপি’র এই সংসদ সদস্য এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
হাতিয়া থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমার এলাকায় একজন নারীকে বর্বরোচিতভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে শুধু ‘শাপলাকলি’তে ভোট দেওয়ার অপরাধে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সেই নারকীয় ঘটনার পর এতদিন পার হয়ে গেলেও সন্ত্রাসীদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। মেলেনি কোনো বিচার।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে কেন একজন নারীকে এমন ভয়াবহ পরিণতির শিকার হতে হবে?
ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হান্নান মাসউদ বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্য মন্ত্রীদের হয়ে কথা বলতে পারদর্শী, কিন্তু দেশে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, তা বন্ধে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ তাদের সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা হারাচ্ছে।”
নিজের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি নিজেও তিনবার হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, সরাসরি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে কোপাতে আসা হয়েছে। তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের হাতে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের রক্ত লেগে আছে বলে তিনি দাবি করেন।
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে হান্নান মাসউদ বলেন, “স্বাধীনতার ৩০ বছর পরে জন্ম নিয়ে আমার মতো যারা রয়েছে, তারা কেন ভোটাধিকার পেল না, তারা তার জবাব চায়। বর্তমানের জেন-জি প্রজন্ম আর ৭২-এর সংবিধান চায় না। তারা চায় এমন এক ব্যবস্থা যেখানে মানুষের জান-মাল ও ভোটাধিকারের নিরাপত্তা থাকবে।”
পরিশেষে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই বিশ্বাসঘাতকতা এই রাষ্ট্র আর সইবে না। বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য এই দেশে আবার দিতে হবে।”