প্রকাশের সময় :
একটি সংবাদপত্রের প্রাণ কেবল তার ছাপা অক্ষরে থাকে না, থাকে তার পেছনের সাহসী গল্পগুলোতে। আজ থেকে দেড় দশক আগে যে যাত্রার বীজ বপন করা হয়েছিল, আজ তা দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকের মহীরুহে পরিণত হয়েছে। ১৭ বছরে পা রাখা ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর এই পথচলা ছিল যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি কণ্টকাকীর্ণ।
অনেকেই হয়তো জানেন না, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ নামটি মূলত সিনিয়র সাংবাদিক রেজা রায়হানের। তিনি এটি শুরু করলেও মাঝপথে থমকে গিয়েছিল। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান যখন কম দামের একটি নতুন ধারার পত্রিকা করার পরিকল্পনা করেন, তখন শুরুতে ‘নতুন ধারা’ নামটি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল ভিন্ন। সাংবাদিক ওয়াহিদ মিল্টনের একটি ফোন কল বদলে দেয় সব। রেজা রায়হানের সেই ডিক্লারেশনটিই হয়ে ওঠে আজকের এই মহীরুহের ভিত্তি।
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের অধীনে News24 বা রেডিও ক্যাপিটাল-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও, সম্পাদকের কাছে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ সবসময়ই এক আলাদা আবেগের জায়গা। তিনি একে তুলনা করেছেন নিজের সন্তানের সঙ্গে। শূন্য থেকে শুরু করা এই পত্রিকাটির প্রতিটি ইট-পাথর আর শব্দের সাথে জড়িয়ে আছে শত শত কর্মীর ঘাম আর মেধা।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানেই কি কেবল লেখার স্বাধীনতা? এর পেছনে যে জীবনের ঝুঁকি আর আইনি লড়াই থাকে, তা বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর ইতিহাস বলে দেয়। পনেরো বছরের এই পথচলায় সম্পাদককে অন্তত ২০০টি মামলার আসামি হতে হয়েছে।
* এক দিনেই ৬৩ মামলা: সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির একটি লেখাকে কেন্দ্র করে একদিনেই ৬৩টি মামলার পাহাড় জমেছিল।
* আদালতের বারান্দায় জীবন: লালমনিরহাটের মোতাহার হোসেন থেকে মুন্সীগঞ্জের নুহ আলম লেলিনের দায়ের করা মামলা—ভোরবেলা ঢাকা কোর্টে হাজিরা দেওয়া আর প্রেসক্লাবের নাস্তা যেন হয়ে উঠেছিল প্রাত্যহিক রুটিন।
* ব্যাংক হিসাব তলব: নজরুল ইসলাম মজুমদারের ব্যাংক কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর সম্পাদক ও তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানের ব্যাংক হিসাব তলব করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।
ব্যক্তিগত মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সংবাদ পরিবেশনই ছিল পত্রিকাটির মূল শক্তি। ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি অন্ধকার দিক তুলে ধরতে আপসহীন ছিল বাংলাদেশ প্রতিদিন। নোয়াব (NOAB) কিংবা সম্পাদক পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও পেশাদারিত্ব বজায় রাখাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
সময় থেমে থাকে না। দেখতে দেখতে ১৬টি বছর পার করে ১৭-তে পা রাখল এই প্রতিষ্ঠানটি। বয়স বাড়ছে প্রতিষ্ঠানের, বয়স বাড়ছে এর কারিগরদেরও। কিন্তু যে আদর্শ আর সাহসের ওপর ভিত্তি করে এই পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজও অমলিন। বাংলাদেশ প্রতিদিন কেবল একটি কাগজ নয়, এটি দেশের কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর।