বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করলেন দুই ছেলে! লাশের পাশে বৃদ্ধা মা

সম্পত্তির লোভে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করলেন দুই ছেলে! লাশের পাশে বৃদ্ধা মা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় :

সন্তান বড় হয়ে বাবার লাঠি হবে, বার্ধক্যে দেবে ছায়া—এটাই চিরন্তন প্রত্যাশা। কিন্তু টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে সেই সন্তানরাই হয়ে উঠল যমদূত। পৈতৃক সম্পত্তির লোভে জন্মদাতা পিতাকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যার এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রাণ হারান ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ কালা মিয়া।

​নিহত কালা মিয়া সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কালা মিয়ার স্ত্রীর পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি ও বাটোয়ারা নিয়ে দুই ছেলে শাকের আলম ও মনিরুল আলমের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। কালা মিয়া চেয়েছিলেন জমিটি নিয়ম অনুযায়ী সব ওয়ারিশের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করতে। কিন্তু দুই ছেলের দাবি ছিল—সব জমি তাদের নামে লিখে দিতে হবে।

​বাবার এই ন্যায়বিচারের অনড় অবস্থানই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াল।

​ঘটনার শুরু গত রবিবার। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার জন্য দুই ছেলে তাদের বাবাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। দিনভর নিখোঁজ থাকার পর সোমবার রাত ১২টার দিকে তাকে অজ্ঞান ও মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে স্বজনরা।
​নিহতের বড় মেয়ে এলম বাহার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ভাই মনিরুল বাবাকে গত রবিবার তার শ্যালিকার বাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। আমরা সারাদিন খুঁজেও তাকে পাইনি। যখন পেলাম, তখন বাবা বেহুঁশ। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।”

​টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মামুন জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কালা মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের আগেই নিহতের শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তার ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

​ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, তিনি এর আগেও এই বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং ছেলেদের সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তারা কোনো কথা শোনেনি।

​টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিক তদন্তে এটি নিশ্চিত যে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ছেলে মিলে তাদের বাবাকে হত্যা করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

​পিতৃহত্যার এই পৈশাচিক ঘটনায় টেকনাফের সাধারণ মানুষ এখন অভিযুক্ত দুই ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। যে সন্তানের জন্য বাবা সারাজীবন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন, সেই সন্তানদের হাতেই এভাবে জীবনের ইতি ঘটবে—তা মেনে নিতে পারছে না কেউ।

Copyright © 2022 Star News Agency. All rights reserved.