প্রকাশের সময় :
ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানো নারী ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের দেশে ফিরলে এই খেলোয়াড়রা মৃত্যুদণ্ড বা চরম সহিংসতার শিকার হতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ইরানের নারী ফুটবল দলটি তাদের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি নিয়ে ইরানের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। যদিও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা সংগীত গেয়েছেন, তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই প্রাথমিক অবাধ্যতাকে ‘অসম্মানের চূড়ান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, “ইরান জাতীয় নারী ফুটবল দলকে ইরানে ফিরে যেতে বাধ্য করার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া একটি ভয়াবহ মানবিক ভুল করছে। সেখানে ফিরলে সম্ভবত তাদের মেরে ফেলা হবে।”
বর্তমানে দলটি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছে। ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, এমনটা করবেন না। তাদের আশ্রয় দিন। আপনারা না দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গ্রহণ করবে।” অস্ট্রেলিয়া যদি সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজে হস্তক্ষেপ করবে বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই নারী ফুটবলারদের এই বিদ্রোহ বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার রাজপথে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী ইরানিরা ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের হাতে ১৯৭৯-এর বিপ্লবপূর্ব ‘সাম্রাজ্যবাদী ইরানের’ পতাকা দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্পের এই সরাসরি প্রস্তাব তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট