রবিবার, ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

চাঁদা না দেয়ায় স্ত্রীর সামনেই স্বামী গণেশ পালকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা

চাঁদা না দেয়ায় স্ত্রীর সামনেই স্বামী গণেশ পালকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় :

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে এক করুণ পরিবেশ। বাতাসে কেবল ভেসে আসছে স্ত্রী নেপালীর বুকফাটা আর্তনাদ। চোখের জল যেন কিছুতেই থামছে না তার। কিছুক্ষণ পরপরই শিউরে উঠছেন তিনি, কারণ তার চোখের সামনেই ঘটে গেছে জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য। এক লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে তার স্বামী, ব্যবসায়ী গণেশ পালকে (৩৫) নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত।

নিহত গণেশ পাল শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বিশ্বনাথ পালের ছেলে। নিজ বাড়িতে ড্রেন নির্মাণের কাজ তদারকি করছিলেন তিনি। স্ত্রী নেপালী জানান, শুক্রবার রাত থেকেই শুরু হয়েছিল বিভীষিকা। রাত ১২টার দিকে জিশান নামে স্থানীয় এক যুবক এসে প্রথম চাঁদা দাবি করেন। এরপর শনিবার সকালেও তিনি এসে গণেশ পালের খোঁজ নেন।

দুপুরে গণেশ পাল যখন ঘরে ফেরেন, তখনই ঘটে সেই নৃশংস ঘটনা। নেপালী বলেন, “জিশান এসে আবার চাঁদা চায়। টাকা দিতে না পারায় আমার চোখের সামনেই ওর পেটে ছুরি চালিয়ে দিল। ঘরে মিস্ত্রিরা কাজ করছিল, কেউ এগিয়ে এল না আমার স্বামীকে বাঁচাতে। এখন আমার আর বাচ্চাদের কী হবে?”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজের বাড়ির ড্রেন সংস্কার করছিলেন গণেশ পাল। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই জিশান ও তার চার সহযোগী এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। গণেশ পাল এই অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করলে জিশান ক্ষিপ্ত হয়ে তার পেটের বাম পাশে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে। শনিবার সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের দাবি একটাই—দ্রুততম সময়ে খুনি জিশান ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “টাকা পায়নি বলে দিনের আলোতে এভাবে মানুষ খুন করা হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবব্রত মজুমদার জানান, “প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি চাঁদা না পেয়েই জিশান এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছি।”

হাসপাতালের মর্গের হিমঘর থেকে হয়তো একদিন গণেশ পালের নিথর দেহ ফিরে আসবে, কিন্তু নেপালীর চোখের সামনে থেকে কি সেই রক্তাক্ত স্মৃতি মুছে যাবে কোনোদিন? পিতৃহারা সন্তানদের ভবিষ্যৎ আর বিচার পাওয়ার আকুতি এখন কক্সবাজারের বাতাসে ভারী হয়ে আছে।

Copyright © 2022 Star News Agency. All rights reserved.