প্রকাশের সময় :
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামে ঈদগাহ মাঠের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. আলাউদ্দিন নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে সাঁকোয়া ঈদগাহ বড় মসজিদে তারাবির নামাজের আগে ঈদের নামাজের ইমাম নিয়োগ নিয়ে একটি আলোচনা সভা আহ্বান করা হয়েছিল। সভায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নিজেদের পছন্দের ইমাম নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্কবিতর্ক এবং পরে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আলাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলাউদ্দিন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল আওয়াল।
সহিংসতার খবর ছড়িয়ে পড়লে জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতির অবনতি দেখে মোহনপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলাউদ্দীন আলো ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে জামায়াত কর্মীদের ধাওয়ায় তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
আব্দুল আওয়াল (উপজেলা জামায়াত আমির) বলেন, “বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আমাদের কর্মীকে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আলাউদ্দীন আলো (পৌর বিএনপি নেতা)বলেন, “এটি গ্রামের অভ্যন্তরীণ দুপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা। এর মধ্যেই একজন মারা গেছেন। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”