প্রকাশের সময় :
এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই খবরটি বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে উপস্থাপককে দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিতে দেখা যায়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর খামেনি প্রাণ হারিয়েছেন।
এই হামলায় কেবল সর্বোচ্চ নেতাই নন, তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে যে, খামেনির একজন পুত্রবধূও ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই নারকীয় হামলায় খামেনির রক্ত সম্পর্কের উত্তরসূরিদের একটি বড় অংশই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।
ইরানের শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার পদটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শক্তিশালী। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রের পতনের পর দেশটিতে এই ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে ইরান মাত্র দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা দেখেছে। ‘আয়াতুল্লাহ’ পদবীধারী এই নেতারা শিয়া মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বিবেচিত।
নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখন কী ধরণের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।