সর্বশেষ :

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার ভাইয়ের চাঁদাবাজির ‘রাজত্ব’: গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়


অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ । ১১:১২ অপরাহ্ণ
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার ভাইয়ের চাঁদাবাজির ‘রাজত্ব’: গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাকারিয়া পিন্টু, সোনামনি, মেহেদী হাসান ও জাকির হোসেন জুয়েল—এই চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। এলাকাবাসীর দাবি, তাদের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণেই পাবনা-৪ আসনে বিএনপির চরম ভাবমূর্তি সংকট তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নিজ গ্রামে দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ি ছাড়াও ঢাকার বাড্ডায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও একাধিক দামী গাড়ি রয়েছে। তার ভাই মেহেদী হাসানের সম্পদের তালিকা আরও দীর্ঘ। পাবনা, রাজশাহী ও ঢাকায় তার একাধিক বহুতল ভবন, সুপার শপ এবং কোটি টাকার অফিস রয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। অন্য দুই ভাই সোনামনি ও জাকির হোসেন জুয়েলের বিরুদ্ধেও নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিঘা বিঘা জমি, ইন্টারনেট ব্যবসা ও পরিবহন সেক্টরে বিপুল বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।

এই চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, জবরদখল ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় ৬৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জাকারিয়া পিন্টু ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেই রয়েছে ১৬টি হত্যা মামলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিক নিয়োগ, ইপিজেডের ঝুট ব্যবসা এবং পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। এমনকি গত ১৭ বছরে অসংখ্য দলীয় কর্মীকে মামলার জালে ফেলে এলাকাছাড়া করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, জাকারিয়া পিন্টুর হঠকারী সিদ্ধান্ত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের কারণে পাবনা-৪ আসনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। এর ফলে দলের ত্যাগী নেতারা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষ দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ‘চক্রের’ অবৈধ সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া এলাকায় বিএনপির জনসমর্থন চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুরোনো সংখ্যা

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
%d bloggers like this: