প্রকাশের সময় :
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) আঞ্চলিক কার্যালয়, রংপুর-এর উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম কর্তৃক ৮ লাখ টাকাসহ সাবেক শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে মাইদুলকে আটক করা হলেও মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী আমেনা বেগম এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ বলে দাবি করেছেন। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা চর শৌলমারীর নিজ বাড়িতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত সত্য আড়াল করতেই তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে।
আমেনা বেগমের দাবি অনুযায়ী, রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর এমপিওভুক্তির ফাইল কোনো কারণ ছাড়াই তিনবার রিজেক্ট করেন উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম। এতে ওই শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন এবং দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন। এই সংকট নিরসনে উপ-পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন। আমেনা বেগম জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রথম কিস্তির ৮ লাখ টাকা নিয়ে উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং মাইদুল ইসলামকে ‘দালাল’ হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘুষ লেনদেনের সময় হাতে-নাতে ধরা পড়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা একসাথে না দেওয়ায় এই নাটকের অবতারণা করা হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে শিক্ষা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।