রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি খামেনির: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি খামেনির: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময় :

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরী মোতায়েনকে কেন্দ্র করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেওয়া একটি কড়া হুঁশিয়ারি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। খামেনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো ইরানের জলসীমার কাছাকাছি এলে সেগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো বিধ্বংসী ক্ষমতা তেহরান অর্জন করেছে। বিশ্লেষকরা এই বক্তব্যকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখছেন, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম সরাসরি সামরিক হুমকি।

খামেনির এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশেষ করে ইরানের ফাত্তাহ সিরিজের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচনের পর থেকে পশ্চিমাদের চিন্তার ভাঁজ আরও প্রকট হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি দ্রুতগতিতে যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। খামেনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিশাল আকৃতির মার্কিন রণতরীগুলো এখন ইরানের হাইপারসনিক প্রযুক্তির সামনে সহজ লক্ষ্যবস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।

ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইরান গত কয়েক বছরে তাদের ড্রোন এবং নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ইরানের হাতে থাকা অত্যাধুনিক আত্মঘাতী ড্রোন এবং নজরদারি ড্রোনগুলো বর্তমানে যেকোনো নৌবহরের জন্য বড় হুমকি। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গেরিলা কায়দায় আক্রমণ চালাতে সক্ষম শক্তিশালী আক্রমণাত্মক বোট এবং সাবমেরিন তৈরি করেছে তেহরান। ইরান মনে করে, সরাসরি সম্মুখ সমরে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে পাল্লা দেওয়া কঠিন হলেও, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সমন্বিত শক্তি ব্যবহার করে তারা আমেরিকার অহংকার এই রণতরীগুলোকে অচল করে দিতে সক্ষম।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই হুমকিকে হালকাভাবে না নিলেও তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে। পেন্টাগনের দাবি, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত যুদ্ধজাহাজ এবং এগুলোর চারপাশে থাকা সুরক্ষা বলয় ভেদ করা প্রায় অসম্ভব। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের কৌশল বদলেছে। অতীতে যা দুর্ভেদ্য ছিল, আধুনিক হাইপারসনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় তা এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাগরের বুকে মোতায়েন করা এই বিশাল ইস্পাতের জাহাজগুলো যদি সত্যিই হামলার শিকার হয়, তবে তা বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব কেবল সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। পারস্য উপসাগর দিয়ে বিশ্বের সিংহভাগ খনিজ তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে কোনো সংঘাত শুরু হলে তার আঁচ লাগবে প্রতিটি মহাদেশে। খামেনির এই ‘হাড়হিম করা’ বার্তা তাই কেবল আমেরিকার জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্যই গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Copyright © 2022 Star News Agency. All rights reserved.