প্রকাশের সময় :
অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়লগ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিনন্দন বার্তার ভাষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’-তে প্রকাশিত এক ভিডিও বিশ্লেষণে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মাসুদ কামাল দাবি করেন, ড. ইউনূসের সরকার ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছে, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, “এই চুক্তির শর্ত কী, শুল্ক কত শতাংশ কমানো হবে কিংবা বিনিময়ে মার্কিন পণ্য আমাদের বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশের কী সুবিধা পাবে—তার কিছুই দেশের মানুষ জানে না। এমনকি আমরা তাদের কাছ থেকে কী কী পণ্য কিনতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি এবং তার দাম কত ধরা হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো স্বচ্ছতা নেই।” এই চুক্তি দেশের অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে, তা নিয়ে কোনো প্রকার জাতীয় আলোচনা না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিনন্দন বার্তার ব্যবচ্ছেদ করেন মাসুদ কামাল। ট্রাম্পের চিঠিতে ‘সফল মেয়াদ কামনা করি’—এই বাক্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তো পূর্ণ মেয়াদেই থাকবেন, সেখানে আলাদা করে সফল মেয়াদ কামনা করার অর্থ কী? এর মধ্যে একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি বা শর্ত মিশে আছে। মনে হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলতে চাইছেন, আমি সফল মেয়াদ কামনা না করলে বা আমাদের চাওয়া পূরণ না হলে আপনি থাকতে পারবেন না।”
মাসুদ কামালের মতে, ট্রাম্পের অভিনন্দন বার্তার ভাষা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ছিল ড. ইউনূস সরকারের সাথে করা ওই বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তিটি নিশ্চিত করা। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের পর অভিনন্দন জানানোর পেছনে স্রেফ সৌজন্য নয়, বরং মার্কিন বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। এই চুক্তির বিস্তারিত জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।